দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সেমিনার পণ্ড! শেষ মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ এসে যা করল

ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসি-র উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে বাধ্য হলেন আয়োজকরা। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এই সভা হওয়ার কথা থাকলেও, দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে তা পণ্ড হয়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় এফসিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই খবর জানানো হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল নয়াদিল্লিতে?

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই সভার পরিকল্পনা করেছিল এফসিসি। প্যানেল বক্তাদের তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, মানবাধিকারকর্মী নূরান নবী, আসিফ ইকবাল সহ একাধিক বিদেশি কূটনীতিক ও গবেষক।

তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই আসরে নামে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাস্থলে প্রায় একশোজনের বেশি পুলিশ মোতায়েন করে ব্যারিকেড তৈরি করা হয় এবং অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন এই হঠাৎ কড়াকড়ি?

ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেই বলে জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করেছে। তবে দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর স্বার্থে যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিল করার পূর্ণ অধিকার পুলিশের রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ৫ অগাস্ট দিল্লির একই ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আওয়ামী নেতাদের নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান হওয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *