উৎসবের ঠিক আগেই ১ মাসের মহাভিযান! তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের দিকে টানতে বিরাট পরিকল্পনা গেরুয়া শিবিরের

দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) সমাজকে নিজেদের দিকে টানতে এবং তাঁদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবার এক বিরাট মেগা পরিকল্পনা নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী এক মাসের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ‘রোড ম্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু হতে চলেছে এই বিশেষ কর্মসূচি।
কেন এই হঠাৎ পদক্ষেপ? সাম্প্রতিক সময়ে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি বা বিভিন্ন সরকারি নীতি নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ প্রজন্মের সোচ্চার হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভ রাজ্য রাজনীতিতে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গো-বলয়ের এই রাজ্য হাতছাড়া হলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বড় ধাক্কা খেতে পারে দল—এমন আশঙ্কাই করান শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেই কারণেই তরুণ সমাজের মন জয় করা এখন বিজেপির কাছে অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।
‘সেবা সংকল্প’ অভিযান ও মেগা পরিকল্পনা: শনিবার রাতে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বাসভবনে একটি দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুব মোর্চার বর্তমান ও প্রাক্তন সভাপতিদের পাশাপাশি স্মৃতি ইরানি, অশ্বিনী বৈষ্ণব, মনসুখ মান্ডভিয়া, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তলব করা হয় ৪০ জনেরও বেশি যুব নেতাকে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—
-
সেবা সংকল্প অভিযান: আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিন ও বিশ্বকর্মা পুজো) থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী এক মাস ধরে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি।
-
জনসংযোগ: ১৭ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর আগ পর্যন্ত এই এক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি যাওয়া এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখবে বিজেপি ও দলের বিভিন্ন গণসংগঠন।
-
আরএসএসের ভূমিকা: এই অভিযানে বিজেপির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সহযোগী সংগঠনগুলিও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তরুণ প্রজন্মের মনের কথা ধৈর্য ধরে শোনার ওপর জোর দিচ্ছেন খোদ সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতও।
একই সঙ্গে, বিরোধীদের সমস্ত ‘মিথ্যা প্রচার’ মোকাবিলা করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ বা মিথ্যার প্রতিধ্বনির মতো প্রচার কৌশলও চালু করেছে দল। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে বিজেপির এই মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার!