রাজ কাপুরের এক মুঠো সাহায্য বদলে দিয়েছিল ভাগ্য! অমর সৃষ্টি রেখে যাওয়া শৈলেন্দ্রের অজানা গল্প

হিন্দি সিনেমা জগতের সোনালী অধ্যায়ে যাঁদের কলমের জাদুতে সুর পেত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য নাম শাইলেন্দ্রকুমার শর্মা অর্থাৎ শৈলেন্দ্র। ১৯২৩ সালের ৩০ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান গীতিকার জীবনের প্রতিটি পর্বে লড়াই আর সুন্দরের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করে গিয়েছেন। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ করা হচ্ছে সেই মানুষটিকে, যাঁর লেখা গান আজও মানুষের রূহে পিন্ধন হয়ে সুকুন জোগায়।
রেলওয়ে কারখানার মেকানিক থেকে বলিউডের কলমযোদ্ধা: দেশভাগের আগের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে রাওয়ালপিন্ডির পাট চুকিয়ে শৈলেন্দ্রকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের মাথুরায়। শৈশবেই তুখোড় মেধাবী এই মানুষটি পড়াশোনার পাশাপাশি কবিতা ও ডফলি বাজানোর নেশায় বুঁদ থাকতেন। পেটের টানে মুম্বইয়ের মাটুঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে হেলপারের কাজ দিয়ে শহরের জীবন শুরু করলেও, শব্দের জাদুকর বেশিদিন নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেননি। একটি কবি সম্মেলনে তাঁর কবিতা শুনে মুগ্ধ হন স্বয়ং রাজ কাপুর। প্রথমে কবিতার বাণিজ্যিকীকরণে প্রবল আপত্তি জানালেও, মায়ের অসুস্থতার সময় রাজ কাপুরের কাছ থেকে নেওয়া ৫০০ টাকার ধার তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং জন্ম নেয় হিন্দি সিনেমার ইতিহাসের বহু অমর সৃষ্টি।
সাফল্য থেকে নিঃস্বতা—এক ট্র্যাজেডি: ‘আওয়ারা’, ‘শ্রী ৪২০’, ‘গাইড’ কিংবা ‘দিসরি কসম’— একের পর এক ছবিতে কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে নিজের প্রযোজনায় তৈরি ছবি ‘তিসরি কসম’ বক্স অফিসে চরম ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বিপুল ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই মানুষটি ধীরে ধীরে মদের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। শেষ জীবনে ‘মেরা নাম জোকার’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘জিনা ইয়াহা মরনা ইয়াহা’ অসম্পূর্ণ রেখেই ১৯৬৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান। ঘটনাবশত, যেদিন তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়, সেদিনই ছিল রাজ কাপুরের জন্মদিন। শৈলেন্দ্র চলে গেলেও তাঁর অমর সৃষ্টি আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।