চেনা যাবে তো প্রিয়জনের মুখ? নেপালের গণসৎকারের আগে যা করছে প্রশাসন, জানলে শিউরে উঠবেন

মর্গে তিল ধারণের জায়গা নেই। ভোটকোশির প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। মর্গের এই ভয়াবহ চাপ সামলাতে এবং বেওয়ারিশ মৃতদেহগুলির শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এবার গণসৎকারের কঠিন সিদ্ধান্ত নিল নেপাল সরকার। তবে ভবিষ্যতে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে পেতে যাতে স্বজনদের কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য অভূতপূর্ব এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহের ছবি তোলা, ভিডিওগ্রাফি এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি এবার শয়ে শয়ে লাশের ‘জিয়োট্যাগিং’ করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি লাশের গায়ে একটি করে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন বা রেফারেন্স নম্বর সাঁটিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় দেড় মিটার গভীর কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কবরের মাঝে ৪০ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্ট বা অন্য কোনো উপায়ে দেহ শনাক্ত হলে সহজেই নির্দিষ্ট দেহাংশ খুঁড়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, কবরের সুনির্দিষ্ট স্থানে কংক্রিটের ফলক ও সাইনবোর্ড বসানোর বন্দোবস্তও করা হচ্ছে।

পুরো সৎকার প্রক্রিয়ার ছবি ও ভিডিও রেকর্ডিং তো থাকছেই, সেই সঙ্গে প্রতিটি কবরের জিয়োট্যাগিং করে তার ডিজিটাল রেকর্ড সুরক্ষিত রাখবে নেপাল পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই সমস্ত বেওয়ারিশ ও অজ্ঞাতপরিচয় লাশের যাবতীয় তথ্য একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। দেশটিতে এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে অন্তত ২৪২৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রকৃতির এই চরম তাণ্ডবের মাঝেও নিখোঁজ মানুষগুলোর শেষ ঠিকানাটুকু টিকিয়ে রাখতে নেপাল প্রশাসনের এই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *