অমানবিক ছেলে-বৌমাকে সম্পত্তি থেকে ঘাড় ধরে বের করে দিতে পারবেন প্রবীণ মা-বাবা! ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা করা বা সম্মান না জানানোর দিন এবার শেষ! সন্তান বা আত্মীয়রা যদি প্রবীণদের ঠিকমতো দেখাশোনা না করেন বা ঘরছাড়া করেন, তবে তাঁদের সম্পত্তি থেকে আইনিভাবে বের করে দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে মা-বাবার। সম্প্রতি লখনউ নিবাসী এক ব্যক্তির মামলার প্রেক্ষিতে এমনই এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে আনল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট: লখনউয়ের বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্তের ৮১ বছর বয়সি মাকে তাঁর নিজের সম্পত্তি থেকেই জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাতে হয়। বহুবার বুঝিয়েও কাজ না হওয়ায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন রবিকান্ত। এরপর মহকুমা আদালত ছেলে-বৌমাকে সেই বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যান অভিযুক্তরা এবং হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ দেয়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রবিকান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৭ সালের ‘মেনটেনান্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অফ পেরেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেন’ আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ অধিকার রয়েছে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার্থে ছেলেমেয়ে বা আত্মীয়দের সম্পত্তি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার।
বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, বয়স বেড়েছে বলেই প্রবীণদের অপমান আর অবহেলা সহ্য করে বেঁচে থাকতে হবে, এমনটা হতে পারে না। সভ্য সমাজ সেটাই, যেখানে প্রত্যেক প্রবীণের সম্মান ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে দেশের হাজার হাজার প্রবীণ মা-বাবার অধিকার ও সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হলো বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।