লরি আটকে টাকা তোলার রমরমা! কড়া শাস্তি পেলেন পুলিশের সার্জেন্ট ও কনস্টেবল

পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। গত সরকারের আমলেও এই নিয়ে চালকদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না, সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক ভিডিও। তবে সরকার বদল হতেই এই ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। লরি থেকে নিয়মিত ‘তোলা’ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কলকাতা পুলিশের দুই স্থায়ী কর্মী সহ এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে বড়সড় বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ভাঙড় এলাকায় একটি মালবোঝাই গাড়ি থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা মিলতেই অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ করা হয়। ওই অভিযুক্তদের তালিকায় একজন ট্রাফিক সার্জেন্টও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের উচ্চস্তর থেকে কলকাতা পুলিশের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পৌঁছানোর পরেই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ছিল, ভাঙড়ের ঘটকপুকুর মোড়ে নিয়মিতভাবে পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে ভাঙড় ট্রাফিক পুলিশ গার্ড। দ্রুত তদন্ত শুরু হলে তাতে সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা, কনস্টেবল শিবনন্দন ঠাকুর এবং সিভিক ভলান্টিয়ার আলি হাসান মোল্লার নাম জড়িয়ে পড়ে। এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলতেই লালবাজারের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা ও কনস্টেবল শিবনন্দন ঠাকুরকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকেও ডিসচার্জ বা ডিমোবিলাইজ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।