বন্ধুর সঙ্গে একই সময়ে পিরিয়ড হওয়া কি সত্যিই ‘সিঙ্ক’ করে, নাকি পুরোটাই চোখের ভুল? জানুন আসল রহস্য!

‘আমার পিরিয়ড হয়েছে, তোরও?’—ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, বোন কিংবা রুমমেটের সঙ্গে এমন মিলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে কমবেশি বহু নারীরই। দু’জনের মাসিকের তারিখ কাছাকাছি আসতেই অনেকেই মনে করেন, একসঙ্গে থাকতে থাকতে বুঝি শরীরের হরমোনগুলোও একে অপরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেলেছে! কিন্তু এই ধারণার পেছনে কি আদৌ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, নাকি পুরোটাই স্রেফ কাকতালীয়?
‘পিরিয়ড সিঙ্ক’-এর ধারণা এল কোথা থেকে?
এই ধারণার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালে। সেই সময় গবেষক মার্থা ম্যাকক্লিনটক ওয়েলেসলি কলেজের ডর্মিটরিতে থাকা ১৩৫ জন ছাত্রীর ঋতুচক্র নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছিল, একসঙ্গে থাকার ফলে মেয়েদের পিরিয়ডের তারিখগুলো একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। তবে পরবর্তীকালের বেশিরভাগ আধুনিক গবেষণা এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহিলারা একসঙ্গে থাকলেই জাদুর মতো তাঁদের মাসিকের সময় মিলে যায় না।
গণিতের হিসাব ও কাকতালীয় ঘটনা:
প্রত্যেক নারীর মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য সমান হয় না। কারও চক্র ছোট (যেমন তিন সপ্তাহ), আবার কারও কিছুটা দীর্ঘ (যেমন পাঁচ সপ্তাহ)। এমনকি একই নারীর ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে চক্রের দিনসংখ্যা কিছুটা বদলাতে পারে। এর ফলে মাঝেমধ্যেই দু’জনের পিরিয়ড একই সময়ে বা কাছাকাছি হতেই পারে। কিন্তু পরের কয়েকটি চক্রে সেই তারিখ আবার অনেকটাই দূরে সরে যায়। অর্থাৎ এটি মূলত ক্যালেন্ডারের স্বাভাবিক হিসাবের ফল। যখন দু’জনের একসঙ্গে পিরিয়ড হয়, তখন বিষয়টি আমাদের বেশি করে চোখে পড়ে এবং মনে থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ‘সিঙ্ক’ হওয়ার ভুল ধারণার জন্ম দেয়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
মানুষের শরীর থেকে নির্গত ফেরোমোন বা চাঁদের আকর্ষণের প্রভাবে ঋতুচক্র মিলে যায়—এমন তত্ত্বের সপক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। মূলত হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টির অভাব বা অতিরিক্ত শরীরচর্চার মতো কারণগুলোই ঋতুচক্রের ওঠানামাকে প্রভাবিত করে। তাই বান্ধবীর সঙ্গে একই দিনে পিরিয়ড হওয়াটা দারুণ কোনো মজার মিল হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে কোনো রহস্যময় জৈবিক যোগাযোগ নেই বললেই চলে।