রক্ষার বন্ধন ঘুচলল অন্ধকারের ঘোর! রাখির পবিত্র দিনে নশা মুক্তি কেন্দ্রে যা ঘটল, তা হৃদয় ছুঁয়ে যাবে

পবিত্র রক্ষা বন্ধনের উৎসব শুধু ভাইবোনের চিরাচরিত সম্পর্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পাঞ্জাবের বিভিন্ন সরকারি নশामुक्ति ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এটি রূপ নিয়েছিল এক নতুন জীবনের লড়াইয়ে। ভগবந்த் মান সরকারের ‘যুদ্ধ নেশাঁ বিরুদ্ধে’ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন রিহ্যাব সেন্টারে উদযাপিত হয়েছে এক আবেগঘন রক্ষা বন্ধন, যা অনেক যুবকের জীবনে ফিরিয়ে এনেছে স্বাভাবিক জীবনের দিশা।

রিহ্যাবের ভেতরে আবেগঘন মুহূর্ত ও চিঠি:

কাপ্তানপুর এবং গুরদাসপুর সহ বিভিন্ন জেলার নশা মুক্তি কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসাধীন যুবকরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। অনেকেই তাঁদের বোনদের হাতে রাখি পরিয়ে নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং নতুন করে জীবন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন। কাপ্তানপুরের এক রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসাধীন রাজভিন্দর সিং (ছদ্মনাম) তাঁর বোনকে লেখা একটি চিঠিতে আবেগাপ্লুত হয়ে লেখেন, “আমার ভুলের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি বুঝতে পেরেছি অতীতে কত বড় অন্যায় করেছি। কথা দিচ্ছি, আর কখনও ওই অন্ধকারের জগতে ফিরে যাব না।”

পরিবারের সমর্থন ও ‘সূর্মা’দের অনুপ্রেরণা:

এই অনুষ্ঠানে এমন কিছু মানুষও উপস্থিত ছিলেন যাঁরা অতীতে দীর্ঘ দিন ধরে নেশার গ্রাসে থাকলেও আজ পুরোপুরি সুস্থ এবং তাঁরা অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন। পাঞ্জাবের এই ‘সূর্মা’ বা পিয়ার অ্যাম্বাসেডররা রিহ্যাবে এসে নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। দশ বছর ধরে নেশামুক্ত থাকা পঙ্কজ মহাজন বলেন, “আমরা চাই আপনারা এই লড়াইয়ে হার না মানুন। আপনাদের বোন এবং পরিবার আপনাদের পাশে আছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, নশामुक्ति বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকারের কমিউনিটি ব্রিজ মডেল (CBM)-এর আওতায় পরিবারের সদস্যদেরও কাউন্সেলিং সেশনে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ঘরে ফিরে যাওয়ার পর রোগীরা পুনরায় বিপথগামী না হন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. বলবীর সিংয়ের মতে, রক্ষা বন্ধনের এই আবহ প্রমাণ করেছে যে নেশার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে একা নয়, গোটা পরিবার একসঙ্গে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *