ভিডিও কলে বসিয়ে মহিলাকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’! কোটি কোটি টাকা লুটে চক্রের খপ্পরে খোদ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এক অবিশ্বাস্য ও বিশাল জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। গোয়ার এক মহিলাকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-এর ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার নেপথ্যে ২১টি শেল কোম্পানি এবং ৪৩ জন ডমি ডিরেক্টরের এক বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে।
ভিডিও কলে ব্ল্যাকমেল ও টাকা হাতানোর কায়দা:
ঘটনার সূত্রপাত জুন মাসে দায়ের হওয়া একটি সাইবার ক্রাইম এফআইআর থেকে। গোয়ার এক মহিলাকে ভিডিও কলে আটকে রেখে সাইবার অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিক পরিচয় দেয়। তাঁকে জানানো হয় যে তিনি একটি বড় ফৌজদারি অপরাধে ফেঁসে গেছেন। এরপর মানসিক ও চরম আতঙ্কের মধ্যে রেখে তাঁর কাছ থেকে একটি গোপন সুপারভিশন অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়া হয়।
সিএ-র হাত ধরেই কোটি কোটি টাকার মানি লন্ডারিং:
তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, এই লুটের টাকা সোজা পকেটে না গিয়ে একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুরত। এরপর সেই টাকা ক্যাশ বা নগদে বদলে তা বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তরিত করা হতো। এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনার মূল হোতা হিসেবে ভুষণ সূর্যকান্ত মোয়ে নামের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে (CA)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি এই অপরাধের জন্য ২১টি ভুয়া কোম্পানি তৈরি করেছিলেন এবং ৪৩ জন ডমি ডিরেক্টরের নামে তা পরিচালনা করতেন। এছাড়াও ভিলাস নারায়ণ পাওয়ার ও শৈलेश দগড়ু চহ্বান নামের আরও দুই সহযোগীকে পুলিশি জালে বন্দি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি একা গোয়া নয়, দেশের প্রায় ২০টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৩৩০টিরও বেশি প্রতারণার অভিযোগের সঙ্গে জড়িত। সব মিলিয়ে প্রায় ৪১৭ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির এই জাল কীভাবে ছড়ানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে এখন আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে ইডি।