চিন-পাক সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টি করতে আসছে বিধ্বংসী অস্ত্র! আমেরিকার থেকে শক্তিশালী ‘জ্যাভলিন’ মিসাইল কিনছে ভারত

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। আমেরিকার কাছ থেকে বিশ্বখ্যাত ‘জ্যাভলিন’ (Javelin) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম কেনার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই বড় ঘোষণা করেছেন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিকে একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি, তিনি ভারতে এই অস্ত্রটির যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স (RTX)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি জ্যাভলিন হল একটি অত্যন্ত আধুনিক ও পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম, যা সেনারা কাঁধে বহন করে নিয়ে যেতে এবং সেখান থেকেই নিখুঁত নিশানায় উৎক্ষেপণ করতে পারেন। পার্বত্য চড়াই-উতরাই থেকে শুরু করে খোলা সমতল মাঠ—যেকোনো ভূখণ্ডে দ্রুত মোতায়েন করার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে এই অস্ত্রের। মূলত শত্রু পক্ষের শক্তিশালী ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সাঁজোয়া যান নিমেষে ছাই করে দেওয়ার জন্যই এটি ডিজাইন করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, ভারতের এই জ্যাভলিন অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন বিদেশ দফতর ভারতের কাছে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের একটি সম্ভাব্য সামরিক বিক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। যার মধ্যে ১০০টি পর্যন্ত জ্যাভলিন সিস্টেম এবং ২১৬টি ‘এক্সক্যালিবার’ (Excalibur) গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, ভারত ইতিমধ্যেই তাদের এম৭৭৭ (M777) হাউৎজার কামানের সঙ্গে এক্সক্যালিবার গোলাবারুদ সফলভাবে ব্যবহার করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় শত্রু শিবিরের সাঁজোয়া বহর মোকাবিলা করার জন্য এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের জুড়ি মেলা ভার। এর আগে অ্যাপাচি ও চিনুক কপ্টার, সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান আমেরিকার থেকে সংগ্রহ করেছে ভারত। বর্তমান এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের সামরিক শক্তিকে যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *