মহিষের মালিকানা নিয়ে গয়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড! আসল মালিককে খুঁজতে এবার যা করল পুলিশ, দেখলে চোখ কপালে উঠবে

জম্মু-জমির বিবাদ তো আকছার শোনা যায়, কিন্তু একটিমাত্র মহিষের মালিকানা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর লড়াই এবং তা মেটাতে পুলিশের অভিনব উদ্যোগ সম্প্রতি রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে বিহারের গয়ায়। একই মহিষকে নিজেদের দাবি করে দুই পক্ষ অনড় থাকায়, আসল সত্য উদঘাটন করতে এবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অর্থাৎ ডিএনএ টেস্টের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গয়া পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক সপ্তাহ আগে। গয়ার উত্তর গ্রামের বাসিন্দা সুরজ যাদব থানায় অভিযোগ জানান যে তাঁর একটি মহিষ চুরি হয়ে গেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে নওরঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ মাঝির বাড়ি থেকে মহিষটি উদ্ধার করে সুরজের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এরপরেই গল্পে বড় মোড় নেয়। প্রকাশ থানায় হাজির হয়ে দাবি করেন, ওই মহিষটি আসলে তাঁরই। এই দ্বন্দ্বে পুলিশ ফের মহিষটিকে থানায় নিয়ে আসে এবং দীর্ঘ দু’দিন তাকে থানাতেই আটকে রাখা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তের পর মহিষটিকে সুরজের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও বিবাদের সুরাহা হয়নি।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গয়া রেঞ্জের আইজি বিকাশ বৈভব গ্রামীণ এসপি দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন। ঠিক হয়েছে, ওই বিতর্কিত মহিষ এবং তার জীবিত মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে মিলিয়ে দেখা হবে। জেনিটিক মিল পাওয়া গেলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার দাবি সত্যি।
তবে এই বিবাদ কেবল পশুর মালিকানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মালিকানা নিয়ে বচসার জেরে সুরজের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেছেন প্রকাশ মাঝি। পুরো বিষয়টি গড়ায় প্রাক্তন আরজেডি বিধায়ক অজয় যাদবের পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, বিহার পুলিশের কাছে পশুকে কেন্দ্র করে এমন বিচিত্র ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে পূর্ণিয়ায় একটি ষাঁড়কে ‘গ্রেফতার’ করার দাবি কিংবা ছাগলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্তের মতো ঘটনাও দেখেছে রাজ্য পুলিশ। তবে মহিষের ডিএনএ টেস্টের এই নজিরবিহীন কান্ড এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।