৭ টাকার ডিম ১৪ টাকা, বাড়তে পারে আরও; আকাশছোঁয়া হচ্ছে সস্তা প্রোটিনের দাম?

সস্তা প্রোটিন হিসেবে পরিচিত ডিমের দাম গত এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পোলট্রি ফার্মে যেখানে প্রতি পিস ডিমের দাম ৭ টাকায় ঠেকেছে, সেখানে অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে তা পৌঁছেছে প্রায় ১৪ টাকায়। ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার থেকে রাজনৈতিক মহল—সব মহলেই এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিমের এই অগ্নিমূল্যের নেপথ্যে রয়েছে সরকারের ইথানল নীতি এবং পোলট্রি ফিডের প্রধান উপাদান ভুট্টার তীব্র সংকট।
পোলট্রি ফিড বা মুরগির খাবার তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ জুড়ে থাকে ভুট্টা। সাম্প্রতিককালে সরকার E20 পেট্রোল তৈরির জন্য ইথানল উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়ায় ভুট্টার বড় অংশ সেই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিগত দুই বছরে ইথানল উৎপাদনে ভুট্টার ব্যবহার ৮.৩ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ১২৫.৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি। এর ফলে পোলট্রি শিল্প এবং ইথানল শিল্পের মধ্যে ভুট্টার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে ভারত থেকে ভুট্টার রফতানি ৫৮ শতাংশ কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে আমদানি ৬০০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কতটা লাগামছাড়া হয়েছে।
যেহেতু ডিম উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই পোলট্রি ফিডের পেছনে ব্যয় হয়, তাই ভুট্টার দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিমের বাজারের ওপর। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মান্ডিতে ভুট্টার দাম প্রতি কুইন্টালে ২,৬৪৫ টাকা পর্যন্ত চড়েছে। এমতাবস্থায় শীতের মরশুমে ডিমের চাহিদা আরও বাড়লে সাধারণ মানুষের পকেট আরও পুড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।