চোখের সামনে মাকে তিলে তিলে শেষ করল বাবা! দুধের শিশুদের ভিক্ষা মেলেনি পাষণ্ডের মন, মোরাদাবাদে ভয়ঙ্কর কাণ্ড

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার মৈনাথের থানা এলাকার তাহরপুর গ্রামে পারিবারিক বিবাদ, অন্ধ সন্দেহ এবং যৌতুকের লোভ একটি হাসিখুশি পরিবারকে চিরতরে ছারখার করে দিয়েছে। পেশায় ট্রাকচালক ফাজিল নামের এক ব্যক্তি সামান্য বচসা ও মদের নেশার জেরে তাঁর ২৫ বছর বয়সী স্ত্রী হুমাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দিক হলো, অভিযুক্ত এই জঘন্য অপরাধটি ঘটিয়েছে তার নিজের নিষ্পাপ ছোট ছোট সন্তানদের চোখের সামনেই।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এবং নিহতের মুখ ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা ইবন হাসানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত স্বামী ফাজিল, শ্বশুর সাজিদ, শাশুড়ি রেহানা এবং দুই দেবর জিলানি ও রব্বানিসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুক মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছে। বর্তমানে পুলিশি আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং অভিযুক্তদের আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।

কীভাবে ঘটেছিল এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড?

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই ফাজিল ও হুমার মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। স্ত্রীকে সবসময় সন্দেহ করার পাশাপাশি প্রায়ই তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত ফাজিল। ঘটনার রাতে হুমা তাঁকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সারারাত ধরে চলা সেই অশান্তির রেশ ধরে পরের দিন ভোরবেলা হুমাকে বেধড়ক মারধর করে ফাজিল। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর নিজের ওড়না দিয়েই গলা টিপে তাঁকে খুন করে সে।

সবচেয়ে বিভীষিকাময় বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার সময় দম্পতির তিন অবুঝ সন্তান হাতজোড় করে তাদের মায়ের জীবন ভিক্ষা চেয়েছিল। কিন্তু পাষণ্ড বাবার পাতে তাদের কান্নার কোনো প্রভাবই পড়েনি। খুন করার পরেও অপরাধ ঢাকতে মৃতদেহটি সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয় এবং খুনের কথা কাউকে জানালে সন্তানদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই ব্যক্তি। এরপর ঠান্ডা মাথায় মাইনথার থানায় গিয়ে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে একটি সাজানো গল্প ফাঁদে সে।

পুলিশি তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণের ফাঁস

তবে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনের সন্দেহ ও পুলিশের তৎপরতায় শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও ফরেনসিক দল নিহতের শরীরে থাকা স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখে বুঝতে পারে এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে এটি একটি সুপরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বর্তমানে গ্রামীণ পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি শিঁকি জোরালো করা হয়েছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *