২৫ দিনেই মন্ত্রী পদের ইতি! কেলেঙ্কারির দায়ে কর্ণাটকের রাজনীতিতে কোন মহাভূমিকম্প ঘটালেন বি নাগেন্দ্র?

কর্ণাটক সরকারের মন্ত্রী বি. নাগেন্দ্র শুক্রবার তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের মাত্র ২৫ দিন পরেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন তিনি। মহর্ষি বাল্মীকি তফসিলি উপজাতি উন্নয়ন কর্পোরেশনে কথিত আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এই নেতা। বিরোধী দলগুলোর লাগাতার চাপের মুখে এটি নাগেন্দ্রের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ।
শুক্রবার বিধান সৌধে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাগেন্দ্র জানান যে, তিনি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় তাঁকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও অশ্রুসিক্ত দেখাচ্ছিল। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন যে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং বিরোধীরা তাঁকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মনুবাদীরা চায় না যে দেশে কোনো আদিবাসীর উন্নতি হোক।”
পুরো কেলেঙ্কারির নেপথ্যে কী?
২০২৩ সালের মে মাসে প্রথমবার মন্ত্রী হওয়ার পর নাগেন্দ্রকে তফসিলি উপজাতি কল্যাণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, অনুমতি ছাড়াই মহর্ষি বাল্মীকি তফসিলি উপজাতি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা বেআইনিভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে কর্পোরেশনের হিসাব কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর পি আত্মহত্যা করলে তাঁর সুইসাইড নোটের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এই বিশাল অঙ্কের অর্থের মধ্যে প্রায় ৮৮ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হায়দরাবাদ-ভিত্তিক একটি সমবায় ব্যাংকসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই এই ঘটনার এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। এরপর ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান নাগেন্দ্র। তৎকালীন সময়ে বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভের মুখে পড়ে ২০২৪ সালের জুন মাসেও একবার মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।
পুনর্বহাল ও ফের পদত্যাগের নাটক
আইনি জটিলতার মাঝেই চলতি বছরের ৩ আগস্ট ডি.কে. শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে পুনরায় মন্ত্রিত্বে ফেরেন নাগেন্দ্র। কিন্তু তাঁর এই কামব্যাককে কেন্দ্র করে বিজেপি ও জেডি(এস) তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। আগামী ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রায়চুর থেকে বল্লারি পর্যন্ত পদযাত্রার ঘোষণাও দিয়েছিল বিরোধীরা। এমনকি বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনেও এই নিয়ে তুমুল হট্টগোল হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিলেন এই বিতর্কিত মন্ত্রী।