সিন্ডিকেট-তোলাবাজি শেষ করতেই হবে! বাংলার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বড় বার্তা স্বপন দাশগুপ্তের

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের পাহাড় নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। টিভি৯ বাংলার এক কনক্লেভে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমৃতাংশু ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় রাজ্যের অর্থনৈতিক হালহকিকত ও তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।
আলোচনার শুরুতেই রাজ্যের আর্থিক সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটে ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ঘাড়ে প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা চেপে রয়েছে। অনেকে মহারাষ্ট্রের ৯ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের সঙ্গে এর তুলনা টানলেও, মহারাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনীতির সঙ্গে বাংলার বর্তমান অবস্থার আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর মতে, শুধু ঋণের বোঝা নয়, বিগত জমানায় প্রশাসনিক সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং তার অবনতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারলেও প্রশাসন সে সময় উপলব্ধি করতে পারেনি। সেই মানসিকতা ও জবরদস্তিমূলক কাঠামোগুলোকে এখন আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
তবে এই বিপুল আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাজ্যে আদৌ উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে আশাবাদী সুর শোনা গিয়েছে অর্থমন্ত্রীর গলায়। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে এটি সম্পূর্ণ সম্ভব। এর জন্য প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে—টাকার সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করা, দুর্নীতির মাধ্যমে চুরি আটকানো এবং নতুন আয়ের উৎস বা অর্থের সংস্থান করা।
অতীতের কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ টেনে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, বিগত ৫০ বছর ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিপিএম বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে এবং পরবর্তীকালে তৃণমূল কিছুটা অপরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল, যার ফলে রাজ্য বহু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে সেই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাকে ফের জুড়ে দেওয়ার কাজ চলছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অঙ্কের আর্থিক সংস্থান হতে পারে যা বাজেটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।
রাজ্যের অর্থনীতিকে চিরতরে চাঙ্গা করতে বড় বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, শুধুমাত্র মোমোর বা মৌ (MoU) সাক্ষর করার মাধ্যমে কাগজে-কলমে বিনিয়োগের পরিসংখ্যান দেখানো আসল সমাধান নয়। মাটির বাস্তবে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে গেলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির মতো অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি, যাতে লগ্নিকারীদের মনে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরে আসে।