শিক্ষায় সেদিনের সেই পতন কি ফিরবে? হারানো গৌরব ফেরাতে ঠিক কী ছক কষছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী?

তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ১০০ দিন ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি একাধিক জনমুখী প্রকল্প শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিগত জমানায় শিক্ষা ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির কালো দাগ লেগেছে, তা মুছে ফেলে কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন দিশা দেখাতে চায় সরকার? টিভি৯ বাংলার কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিশদে তুলে ধরলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
‘চ্যালেঞ্জটা আমরা গ্রহণ করেছি’
অতীতে শিক্ষা ক্ষেত্রের পতন এবং বর্তমান সরকারের রূপরেখা নিয়ে বলতে গিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা ক্ষেত্র থেকেই পতন শুরু হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারের কাজটা সত্যিই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাঁর কথায়, “এতটা পতন না হলে আমাদের উত্থান হতো না। শিক্ষা দিয়েই পতন শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাজটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করা। পাঁচ দশক ধরে যা শেষ হয়েছে, তার কোর্স কারেকশন সহজ হওয়ার নয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধার করার যে কাজ ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার করছে, তার অন্যতম ইনডেক্স হবে শিক্ষার গৌরব ফেরানো।”
আস্থা হারাচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার জেরে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর থেকে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের আস্থা কীভাবে তলানিতে এসে ঠেকেছে, সেকথাও খোলামেলা স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে আজ বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে হচ্ছে। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শিক্ষাঙ্গন যদি পড়াশোনা ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তখন অভিভাবকরা কীভাবে ভাববেন যে ছেলেকে কোনো ভালো জায়গায় পাঠাব? আমি জেলার ছেলে। কলেজ পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য এসেছিলাম। আমার পরের প্রজন্ম আমার ভাই চেন্নাই চলে গিয়েছিল। এর পরের জেনারেশন, অর্থাৎ আমার ছেলেকে স্কুল পাশ করার পর গ্র্যাজুয়েশনের জন্য হয়তো অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেব। এটা একটা প্রবণতা। কারণ উচ্চশিক্ষার যে প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী, তাঁদের অভিভাবকরা আস্থা হারাচ্ছেন। সেই আস্থা, বিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এবার ভালো কিছু হবে। রাজ্য সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তা হতেও শুরু করেছে।”
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে বড় বার্তা
সরকারি স্কুলগুলিতে পরিকাঠামোর অভাব এবং শিক্ষকের ঘাটতি নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের অভিযোগকে পুরোপুরি মানতে নারাজ উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে নেতিবাচক প্রচার হলেও এর মূল ভিত্তি এখনও অনেক বেশি পোক্ত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো খারাপ বা শিক্ষকের অভাব, তা পুরোপুরি সত্যি নয়। আমাদের অপবিত্র হয়ে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগের মধ্যে বলছি সরকারি গুণগত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যা ঝাড়াই-বাছাই হয়, প্রাইভেট স্কুলগুলিতে তা হয় না। সরকারি স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের প্রক্রিয়া কঠোর। যদি পবিত্র উপায়ে, যা আমাদের লক্ষ্য, সেই উপায়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ আমরা করতে পারি, ঠিকমতো পঠন-পাঠনের জন্য পাঠদানে বাধ্য করতে পারি, এমনিতেই শিক্ষার মান বাড়তে বাধ্য। যা সময়সাপেক্ষ।”