৮০৩ কোটির মালিক কে? হাইকোর্টে বিরাট ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল, বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণে ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য!

৮০৩ কোটির মালিকানা নিয়ে বড় ধাক্কা! কালীঘাট তৃণমূলের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি খারিজ করে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ৮০৩ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। হরিশ মুখার্জি রোডের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা মোট ৮০৩ কোটি টাকার জট কাটানোর জন্য নতুন করে আরও অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

আ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প ব্যবস্থা: বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, ‘আসল তৃণমূল’ কে, সেই আইনি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশ দেওয়া যাবে না। তবে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও খরচ সচল রাখার জন্য যে অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে আদালত। এর আগে অন্য বেসরকারি ব্যাঙ্কে বন্ধ থাকা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার জন্য স্পেশাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী থেকে শুরু করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী—সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজ্যের বিস্ফোরক সওয়াল ও কোটি কোটি টাকার লেনদেন: অন্যদিকে, বিধাননগর সাইবার থানার তদন্তের সূত্র ধরে আদালতে বিস্ফোরক তথ্য পেশ করেছে রাজ্য। রাজ্যের দাবি অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিকবার ১০ কোটি টাকা করে জমা দিয়েছেন। এছাড়া ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর পক্ষ থেকে ৩০ কোটি টাকা এবং সুমিত রায় ৭ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই সমস্ত ব্যক্তিরাই বিভিন্ন দুর্নীতি মামলার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে আদালতে সওয়াল করেছে রাজ্য। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুজোর ছুটির পরেই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *