স্বামীর ওপর রাগ করে জামাকাপড় ছুড়তেই কাণ্ড বিরাট! ১০০০ বাড়িতে হুট করে বিদ্যুৎ উধাও কেন জানেন?

স্বামী-স্ত্রীর তীব্র পারিবারিক অশান্তির জেরে রীতিমতো নাকাল হতে হলো গোটা এলাকাকে। রাগের চোটে ঘরের বাইরে জামাকাপড় ছুড়ে ফেলার খেসারত দিতে হলো এক হাজারেরও বেশি পরিবারকে! ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ-ভোল্টেজের তারে সেই পোশাক আটকে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ দু’ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে কাটাতে হলো গোটা গোরখপুরবাসীকে।
ঠিক কী ঘটেছিল গোরখপুরে?
উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের রামজানকী নগর এলাকায় সম্প্রতি এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ করেই ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। আকস্মিক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। রামজানকী নগর ফিডারের লাইনম্যান সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ চালুর চেষ্টা শুরু করেন, কিন্তু লাইন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বারবার ট্রিপ করে বিকল হয়ে যেতে থাকে। প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ত্রুটির আসল কারণ খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি বিশেষ দল ফিডার এবং আশেপাশের লাইনগুলো খতিয়ে দেখতে রাস্তায় নামে।
টহল দিতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
এলাকায় টহলদারি চালানোর সময় বিদ্যুৎ কর্মীদের চোখ আটকে যায় একটি ১১,০০০ ভোল্টের উচ্চ-চাপের তারের দিকে। কর্মীরা দেখেন, বিপজ্জনক সেই তারটির ওপর বেশ কিছু জামাকাপড় ঝুলছে বা আটকে রয়েছে। আর তখনই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আসল রহস্য পরিষ্কার হয়ে যায়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সময় স্থানীয় এক দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে তুমুল অশান্তি বা ঝগড়া চলছিল। সেই রাগের বশে তাঁরা দুজনেই ঘর থেকে একে অপরের জামাকাপড় বাইরে ছুড়ে ফেলতে শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত, সেই ছুড়ে ফেলা কাপড়গুলোর একটি অংশ বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া ওই ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ-ভোল্টেজের তারের ওপর গিয়ে পড়ে। কাপড়ের সংস্পর্শে আসতেই হাই-ভোল্টেজ লাইনটি বারবার ট্রিপ করতে শুরু করে এবং নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুই ঘণ্টা অন্ধকারে হাঁসফাঁস করল হাজারেরও বেশি বাড়ি
এদিকে তারে কাপড় জড়িয়ে থাকায় বিদ্যুৎ কর্মীরা শত চেষ্টা করেও লাইন সচল করতে পারছিলেন না। এর ফলে রামজানকী নগর এলাকার ১ হাজারেরও বেশি বাড়ি একটানা প্রায় দুই ঘণ্টা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে থাকে। গ্রীষ্মের এই আর্দ্র ও গুমোট আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন এবং বিদ্যুৎ অফিসে একের পর এক অভিযোগ জানাতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্পূর্ণ লাইনটি শাটডাউন বা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিদ্যুৎ কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তারে জড়িয়ে থাকা সেই পোশাকগুলি সরিয়ে দেন এবং লাইনটি পুরোপুরি পরীক্ষা করেন। ত্রুটি পুরোপুরি সংশোধিত হওয়ার পরই এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আলো ফিরলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তারাও পরে নিশ্চিত করেন যে, পারিবারিক কলহের জেরে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা কাপড় ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে আটকে যাওয়ার ফলেই এই বড় বিপত্তি ঘটেছিল।