মন খারাপে কেন বারবার কষ্টের গান শুনতে ইচ্ছে করে? জানলে অবাক হবেন!

মনটা খুব খারাপ? অফিসে বকা খেয়েছেন কিংবা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছে? এমন পরিস্থিতিতে প্লে-লিস্টের কোন গানটা আপনার আঙুল খুঁজে নেয়? বেশিরভাগ মানুষই বিষণ্ণতার মুহূর্তে বেছে নেন কোনো গভীর কষ্টের গান। কান্নায় ভেঙে পড়ার জোগাড় হলেও গানটার লিরিক্স শুনে মনে হয়, যেন ঠিক আপনার মনের কথাই কেউ গেয়ে চলেছে। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি, আনন্দের গান শুনলে যখন মন ভালো হওয়ার কথা, ঠিক সেই সময়েই কেন আমরা আরও বেশি করে দুঃখের গান শুনতে পছন্দ করি? বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে চমৎকার তিনটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
১. ‘আমি একা নই’— এই সান্ত্বনার অনুভূতি
মন খারাপের সময়ে আমাদের মনে জাঁকিয়ে বসে একাকীত্ব। তখন মনে হয়, গোটা পৃথিবীতে কেবল আপনিই বুঝি এই কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কষ্টের গানের কথা বা লিরিক্স যখন আপনার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, তখন অদ্ভুত এক মানসিক প্রশান্তি কাজ করে। মনে হয়, “আরে, এই কষ্টটা শুধু আমার একার নয়, এই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আরও অনেকেই গেছে।” গায়ক বা গীতিকার যেন ঠিক আপনার হয়েই মনের না বলা কথাগুলো প্রকাশ করছেন। এই পারস্পরিক অনুভূতির ছোঁয়া একাকীত্ব নিমেষে কমিয়ে দেয়।
২. মস্তিষ্কে ভালো লাগার হরমোন নিঃসরণ
বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, কষ্টের গান শুনলে আমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোল্যাকটিন, যা মূলত কান্না বা দুঃখের সময়ে শরীরকে শান্ত করার জন্য নিঃসৃত হয়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিকভাবে সান্ত্বনার কাজ করে। পাশাপাশি, কষ্টের সুরের জাদুতে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনও নিঃসৃত হয়, যা মনে অদ্ভুত এক শান্তি ও ভালো লাগা এনে দেয়। আর সেই কারণেই কাঁদতে কাঁদতেও মনের ভেতরে এক ধরনের আরাম অনুভব হয়।
৩. নিরাপদ আবেগ প্রকাশের মাধ্যম বা ‘ক্যাথারসিস’
আমাদের সামাজিক কাঠামোগুলোয় সব সময় खुलकर কান্না করা বা মন খারাপ জাহির করা যায় না। কষ্টের গান সেই আবেগ চেপে না রেখে তা বাইরে বের করার একটা নিরাপদ জানালা খুলে দেয়। গানের সুরের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বা নীরবে চোখ ভিজিয়ে কাঁদলে কেউ আপনার বিচার করবে না। গান শেষ হওয়ার পর বুকের ভেতরের জমে থাকা ভারটা অনেকটুকুই হালকা লাগে। মনোবিদদের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইমোশনাল ক্যাথারসিস’ বা আবেগগত রেচন।
তাই পরের বার মন খারাপের মুহূর্তে অরিজিৎ সিং বা কোনো মনকে নাড়া দেওয়া দুঃখের গান শুনতে ইচ্ছে করলে নিজেকে ভুলেও আটকাবেন না। বিজ্ঞান বলছে, এই গান আপনার মন খারাপ বাড়িয়ে তুলছে না, বরং আপনার মন নিজেই নিজেকে সারিয়ে তোলার এক অভিনব পথ খুঁজে নিচ্ছে।