নেপালে মহাপ্রলয়ের মাঝে নিখোঁজ দুর্গাপুরের দম্পতি! মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে বাড়ছে উদ্বেগ। তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তুষারধস ও হড়পা বানের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বহু পর্যটক। আর এই বিপর্যয়ের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর থেকে মানস সরোবর ভ্রমণে যাওয়া এক দম্পতির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। নিখোঁজ ওই দম্পতির নাম মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায় ও অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁরা দুর্গাপুরের তপোবন সিটির বাসিন্দা।

বুধবার রাতেও হয়েছিল শেষ কথা

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ অগাস্ট একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার উদ্যোগে মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ওই দম্পতি। তাঁদের যাত্রাপথের পরিকল্পনায় নেপাল হয়ে এগোনোর কথা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দলে মোট ৩৬ জন পর্যটক একসঙ্গে ছিলেন, যার মধ্যে দুর্গাপুরের ৫ থেকে ৬ জন বাসিন্দা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রতিবেশীদের দাবি, বুধবার রাত পর্যন্ত মেয়ে মৌসুমি ও অরিন্দমের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেশীদের উদ্বেগ ও পুলিশের তৎপরতা

তপোবন সিটির বাসিন্দা গৌতম অধিকারী জানান, মানস সরোবর যাত্রা নিয়ে ওই দম্পতি অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। তিনি অরিন্দমের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেবল রিং বাজতেই থাকে, কোনো সাড়া মেলেনি। প্রথমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা বলেই মনে করেছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু পরবর্তীতে নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগ ও হড়পা বানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে যায়।

অরিন্দমের প্রাক্তন সহকর্মী তথা প্রতিবেশী অনুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, কৈলাসের দিকে এগোনোর আগে ওই দম্পতির নেপালের স্যাবরুবেসি এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবারই তাঁদের পরবর্তী দফার যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক সেইসময়েই তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও বিপর্যয়ের জেরে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশ তপোবন সিটিতে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাঁদের ভ্রমণের রুট ও সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনো নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি।

পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটক আটকে বা নিখোঁজ

উল্লেখ্য, নেপালের এই প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের মাধ্যমে কৈলাস-মানস সরোবরে যাওয়া ৩২ জন পর্যটক এবং তাঁদের দুই ট্যুর ম্যানেজারের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, হুগলির আরামবাগের প্রায় ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে থাকলেও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রয়েছে। আপাতত প্রিয়জনদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুণছেন দুর্গাপুরের গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *