ফ্রিজের ঠান্ডা জল খেলেই কি সর্দি বসে যায়? যুগ যুগ ধরে চলা এই ধারণার আসল সত্য জেনে চমকে যাবেন!

গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা জল যেন মরুদ্যানের মতো স্বস্তি। কিন্তু বর্ষা কিংবা শীতকাল এলেই আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় চিরপরিচিত সতর্কবার্তা— ‘ফ্রিজের ঠান্ডা জল খেয়ো না, সর্দি বসে যাবে!’ ছোটবেলা থেকে মায়েদের মুখে শোনা এই ধারণা আমাদের সমাজের মজ্জায় মজ্জায় মিশে রয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে চলে আসা এই কথাটি কি আদতে সত্যি? বিজ্ঞান বলছে, ফ্রিজের ঠান্ডা জলের সঙ্গে সর্দি-কাশির দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই!
সর্দি হওয়ার আসল কারণ কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ সর্দি বা কমন কোল্ড মূলত একধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। রাইনোভাইরাস সহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস এই রোগের জন্য সরাসরি দায়ী। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস, তাঁর খুব কাছাকাছি আসা কিংবা কোনো দূষিত জিনিসে হাত দেওয়ার পর সেই হাত চোখ, নাক বা মুখে ছোঁয়ালে এই সংক্রমণ ছড়ায়। অর্থাৎ, শরীরে ভাইরাসের প্রবেশ ঘটলেই সর্দি হতে পারে, ঠান্ডা জল খাওয়ার কারণে তা হয় না।
তাহলে ঠান্ডা জল খেলে গলা ধরে কেন?
এখানেই রয়েছে একটা সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক বিষয়। খুব ঠান্ডা জল খেলেই যে শরীরে সর্দি তৈরি হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে সংবেদনশীল গলার ক্ষেত্রে এটি সামান্য অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই গলা ব্যথা, সর্দি-কাশির প্রবণতা, অ্যালার্জি বা অ্যাজমার মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ঠান্ডা জল খেলে সাময়িক জ্বালা বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
অনেকেই ঠান্ডা জল খাওয়ার পর সামান্য গলা খুসখুস করলেই ধরে নেন যে সর্দি বসে গিয়েছে। কিন্তু গলার এই সাময়িক অস্বস্তি এবং ভাইরাসঘটিত সর্দি-কাশি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়।
সর্দি হলে কি শুধুই গরম জল খাওয়া উচিত?
সর্দি-কাশির সময়ে গরম বা ঈষদুষ্ণ জল পান করলে গলার ভেতরের পেশী আরাম পায়, একথা ঠিক। তবে তার মানে এই নয় যে গরম জল খেলেই শরীরের ভেতরে থাকা ভাইরাস তৎক্ষণাৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। অসুস্থতার সময়ে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকা বা শরীরে জলের জোগান বজায় রাখা। আপনার যদি উষ্ণ জল খেতে ভালো লাগে, তবে সেটাই খান। কিন্তু ঠান্ডা জল খেলে যদি আপনার কোনো শারীরিক সমস্যা না হয়, তবে কেবল অকারণে সর্দি বসার ভয়ে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
তাই ঠান্ডা জল নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। হাত পরিষ্কার রাখা, অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত জল পানের মাধ্যমেই শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব। ঠান্ডা জল সরাসরি সর্দি তৈরি করে না, আসল খলনায়ক হলো ভাইরাস। তবে ঠান্ডা জল খেয়ে আপনার যদি ব্যক্তিগতভাবে গলার অস্বস্তি হয়, তবে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল বা কুসুম গরম জল বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।