মহিলাদের জন্য বার্ষিক ৪০ হাজার টাকার বাম্পার উপহার! সপা-র মেগা ঘোষণায় শোরগোল

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক কব্জা করতে এবার এক মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করে শোরগোল ফেলে দিল সমাজবাদী পার্টি (সপা)। লখনউতে দলের প্রধান অখিলেশ যাদবের উপস্থিতিতে মইনপুরীর সাংসদ ডিম্পল যাদব ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যে সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য চালু করা হবে “স্ত্রী সম্মান সমৃদ্ধি যোজনা”। এই প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সপা নেতৃত্ব।
প্রতি বছর মিলবে ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর আর্থিক অনুদান। ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মহিলারা প্রতি বছর সরাসরি ৪০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। শুধু তাই নয়, দলের পক্ষ থেকে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই সহায়তার পরিমাণ কেবল ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রতি বছর নিয়ম করে এই অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
প্রযুক্তির ছোঁয়া ও মহিলা ক্ষমতায়নের পাঁচ স্তম্ভ
কেবল নগদ অর্থ প্রদানই নয়, মহিলাদের ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এই যোজনায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের বিনামূল্যে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং বিশেষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজেপি বনাম সপা রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
মহিলা ক্ষমতায়নের এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারও অবশ্য বসে নেই। যোগী আদিত্যনাথ সরকার ইতিমধ্যে প্রবীণ নারীদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু রেখেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য চার কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তার কথা বিবেচনা করছে।
তবে এই মহিলা-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করেই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শقেছেন অখিলেশ যাদব। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পরেও তা দ্রুত বাস্তবায়নে কেন দেরি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নারীদের সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনেও শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সপা প্রধান। সব মিলিয়ে, নারী ভোটারদের মন জয় করতে দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই মেগা প্রতিশ্রুতির লড়াই এখন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।