নেপালে জলপ্রলয়! ৩ শতাধিক ভারতীয় সহ ১৮০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, নিখোঁজদের খোঁজে হাহাকার

নেপালের হিমালয় সীমান্ত এলাকায় নেমে আসা এক ভয়াবহ ও প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ, যার মধ্যে কেবল তিনশো-র বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ধস, জমে থাকা কাদা, পাথর এবং ভেঙে পড়া রাস্তা-সেতুর কারণে বর্তমানে চরম দুর্গম হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি, যার ফলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও উদ্ধারকারীরাও দুর্গত এলাকাগুলিতে পৌঁছতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের পরিদর্শনে ধ্বংসলীলার চিত্র
পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দুর্গত অঞ্চল নুওয়াকোটে পৌঁছেছেন। সড়কপথে সেখানে পৌঁছানোর পর পরিকাঠামো উন্নয়নমন্ত্রী সুনীল লামসালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পায়ে হেঁটে সরাসরি দুর্গত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন। তদারকি করেন যুদ্ধকালীন উদ্ধারকাজ এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতির।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসে সর্বগ্রাসী হড়পা বান, যা একাধিক জনপদে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। উন্মত্ত জলের তোড়ে বহু রাস্তাঘাট ও পাকা সেতু চোখের পলকে ভেসে গিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, নেপাল ও চিন— দুই দেশের প্রশাসনই নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ের কাজও চলছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই ভয়াবহ বিপর্যয়?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লেন্দে নদী সংলগ্ন এলাকায় এই বিপর্যয়ের মূল সূত্রপাত। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বরফ ও বিশাল আকৃতির পাথরসহ একটি বিশাল ধসের জেরে আচমকাই বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ বাঁধ ভেঙে নীচের দিকে নেমে আসে। সেখান থেকেই তৈরি হয় এই ভয়ংকর হড়পা বান।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল দেশের সংসদে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঠিক সকাল ৮টা বেজে ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে একটি ভূকম্পনের মতো সংকেত রেকর্ড করা হয়েছিল। তার মাত্র তিন মিনিট পরেই হড়পা বান নেমে আসার খবর আসে। ফলে প্রথমে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল, হয়তো তীব্র ভূমিকম্পের কারণেই হিমবাহ ফেটে এই বিপর্যয় ঘটেছে। তবে পরবর্তীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (USGS) পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, ওই সময়ের ভূকম্পন-সংকেতটি প্রচলিত কোনো ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। বরং হিমবাহের বিপুল বরফ ও পাথর ধসে পড়ার ফলেই ওই কম্পন এবং এই ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।