কাটোয়ার যুবকের হাতের জাদুতে মেক্সিকোয় পাড়ি দিচ্ছে দুর্গার সাজ! তাক লাগাল বাংলার শিল্পীর কারুকাজ

শোলা, পুঁতি, স্টোন ও চুমকি-সহ নানা উপকরণের নিপুণ কারুকাজে তৈরি হয় মা দুর্গার নজরকাড়া সাজ। আর সেই সুদৃশ্য সাজই নিজের হাতের জাদুতে তৈরি করে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে গোটা রাজ্যে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার এক যুবক। কাটোয়া শহরের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা সুমিত বরণ সাহা সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের প্রবল আগ্রহ ও স্বচেষ্টায় শিখেছেন এই প্রতিমার সাজ তৈরির নিখুঁত কাজ। আর এবার তাঁর হাতের তৈরি সম্পূর্ণ দুর্গাপুজোর সাজ পাড়ি দিচ্ছে সুদূর মেক্সিকোয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরেই আন্তর্জাতিক অর্ডার
শিল্পী সুমিত বরণ সাহা জানিয়েছেন, তাঁর তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি ও ভিডিও তিনি নিয়মিত নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করতেন। ঠিক এক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিদেশি ক্রেতারা। সেই সূত্রেই আসে এই বিশেষ অর্ডারের সুযোগ। এই সম্পূর্ণ সাজের দাম ঠিক হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। সুমিত জানিয়েছেন, তিনি নিজে এটি কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন, যেখান থেকে বিমান বা অন্য মাধ্যমে তা মেক্সিকোয় পৌঁছে যাবে।
শখ থেকে শুরু, আজ বিশ্বজোড়া খ্যাতি
ছোটবেলায় কাটোয়ার কুমোরপাড়া বিদ্যালয়ে পড়ার সময় কুমোরদের প্রতিমা তৈরি করতে দেখেই মাটির ঠাকুর বানানোর প্রতি প্রবল আগ্রহ জন্মায় সুমিতের। পরবর্তী সময়ে নিজের তৈরি প্রতিমার জন্য নিজে সাজ বানাতে গিয়েই শুরু হয় শোলার সাজ তৈরির এই অনন্য পথচলা। প্রথমে বিষয়টি নিছক শখ থাকলেও, সেই কাজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তা নজর কাড়ে অনেকের। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে অর্ডারের বহর। এর আগে ২০২২ সালে প্রথমবার সুমিতের তৈরি সাজ পাড়ি দিয়েছিল মরিশাসে। এরপর মরিশাস ছাড়াও তাঁর হাতের তৈরি শিল্পকর্ম পৌঁছে গিয়েছে সুইডেন ও লন্ডনেও। আর এবার সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদেই মেক্সিকোয় পাঠানোর জন্য তিনি তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ দুর্গাপুজোর একটি দুর্গার সাজ।
তবলা বাদন থেকে প্রতিমার সাজ— বহুমুখী প্রতিভা
এই বিষয়ে সুমিত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আমার কাজ আগেও বিদেশে গিয়েছে, তবে এবার দুর্গাপুজোর সাজ প্রথমবার সুদূর মেক্সিকোয় যাচ্ছে। দেশের বাইরে আমার হাতের কাজ সমাদৃত হচ্ছে, এটা ভেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই পুরো যাত্রায় পরিবারের কাছ থেকেও যথেষ্ট সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছি।”
পেশায় সুমিত একজন দক্ষ তবলা বাদক এবং তিনি ছাত্রছাত্রীদের তবলাও শেখান। সেই পেশাগত কাজের ফাঁকে রাতের পর রাত জেগে সময় বের করেই তিনি তৈরি করেছেন মেক্সিকোয় যাওয়ার এই দুর্গার সাজ। মাউন্ট বোর্ড, পুঁতি, স্টোন, আঠা, ডায়মন্ড এবং চুমকি-সহ নানা আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে এই বিশেষ সাজটি সম্পূর্ণ করতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় ২০ দিন। তাঁর এই শিল্পযাত্রায় শুরু থেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। নিছক মনের টানে শুরু হওয়া শখের কাজ আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়, যা কাটোয়াবাসীর কাছেও গর্বের বিষয়।