গ্যাংওয়ারের গান গেয়েই কি কাল হল? হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান খুন হতেই জিম্বতির নেপথ্যে কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান হত্যা মামলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে শামলিতে একটি জিম থেকে বেরোনোর সময় আততায়ীদের গুলিতে খুন হন অঙ্কিত। সদর কোতোয়ালি এলাকার একটি নর্দমার কাছে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই অপরাধ সংঘটিত করে সহজেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আর এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামতেই একের পর এক অন্ধকার দিক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
সোনিপত ছাড়ার নেপথ্যে কি চাঁদাবাজির আতঙ্ক?
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঘটনার মাত্র সাত মাস আগে অঙ্কিত সোনিপতে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিং করছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, সেই সময়েই সোনিপতে থাকাকালীন তিনি নিয়মিত চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকি পেতে শুরু করেছিলেন। আর সেই ভয়েই তিনি সোনিপত ছেড়ে উত্তরপ্রদেশের শামলিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। শামলিতে আসার পর সেখান থেকেই তিনি তাঁর সমস্ত সঙ্গীত প্রকল্প এবং ভিডিওর শুটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অপরাধ জগতের গানই কি কাল হল?
অঙ্কিত বালিয়ানের কাজের একটি বড় অংশ জুড়েই ছিল হরিয়ানভি সঙ্গীত এবং অপরাধ জগতের নানান উপাদান। তাঁর অনেক জনপ্রিয় গানেই গ্যাং যুদ্ধ, জেল, অস্ত্রশস্ত্র এবং দুর্ধর্ষ অপরাধীদের জীবন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিত্রিত করা হয়েছিল। এমনকি, আদালতে গুলি চালানোর একটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত তাঁর একটি গান ইউটিউবে লক্ষ লক্ষ ভিউ কুড়িয়েছিল। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে এই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, গায়কের এই ধরণের পপ ও গ্যাংস্টার কালচার নির্ভর গানগুলির জেরে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে কোনো মারাত্মক বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর পোস্ট ও ভোলু শাহপুরিয়ার নাম
অঙ্কিতের হত্যাকাণ্ডের ঠিক পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভোলু শাহপুরিয়া’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে একটি কথিত পোস্ট সামনে আসে, যেখানে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই পোস্টে অঙ্কিতের একটি নির্দিষ্ট গানের উল্লেখ এবং একটি গ্যাংয়ের প্রতি তাঁর কথিত অসন্তোষের কথা বলা হয়েছে। যদিও এই পোস্টটি এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই এটিকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা কোনো নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে এখনই মানছে না পুলিশ। তবে অঙ্কিতের অতীতে হুমকি পাওয়ার দাবি এবং এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পুরো মামলার তদন্তের পরিধিকে অনেকদূর বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিজিটাল রেকর্ড ও সিসিটিভি খতিয়ে দেখছে পুলিশ
অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছে পুলিশের একাধিক স্পেশাল টিম। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, নিহত গায়কের মোবাইলের কল ডিটেইলস (CDR), সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে তিনি কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, সেই সমস্ত তথ্য সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনিপত থেকে শামলিতে চলে আসার পর তাঁর দৈনন্দিন রুটিন এবং কার কার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল, তা এই তদন্তে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। হরিয়ানা ও দিল্লি সহ সম্ভাব্য বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে আততায়ীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে।