ব্যাঙ্কের চাকরি কি আর নিরাপদ নয়? দেশের ৪টি বড় বেসরকারি ব্যাঙ্কে একসাথে ১৩ হাজার কর্মী ছাঁটাই!

ব্যাঙ্কের চাকরি মানেই একসময়ে সমাজে সবচেয়ে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কেরিয়ার হিসেবে ধরা হত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর দাপটে কি সেই সুরক্ষিত পেশাতেও এবার টান পড়তে চলেছে? সম্প্রতি দেশের চারটি বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ছাঁটাই সংক্রান্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আর্থিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। চলতি বছরে দেশের শীর্ষসারির এই ব্যাঙ্কগুলিতে কর্মী সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ হাজার কমে গিয়েছে।
কোন ব্যাঙ্কে ঠিক কত কর্মী ছাঁটাই হয়েছে?
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের প্রথম সারির বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের এই প্রবণতা বেশ স্পষ্ট।
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক (ICICI Bank): এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক। ব্যাংকটির স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫,১৪৮ জন কমে গেছে। গত মার্চ মাসে তাদের মোট স্থায়ী কর্মী সংখ্যা নেমে এসেছে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ২৯-এ, যা গত বছর ছিল ১ লক্ষ ২৯ হাজার ১৭৭। এছাড়া অস্থায়ী কর্মীদের ধরলে মোট ছাঁটাইয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬,৬৩৩ জনে।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank): দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই ব্যাঙ্কে কর্মী সংখ্যা কমেছে ৩,৩৪৩ জন। বর্তমানে তাদের মোট কর্মী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১১ হাজার ১৭৮-এ।
অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক (Axis Bank): এই ব্যাংকেও কর্মী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩,১০০ জন। বর্তমানে তাদের মোট কর্মী সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৩০০।
কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক (Kotak Mahindra Bank): এই ব্যাঙ্কে কর্মী সংখ্যা ১,২৬৯ জন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৪-এ।
নতুন শাখা খুললেও কেন কমছে কর্মী?
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, একদিকে যখন এই ব্যাঙ্কগুলি কর্মী ছাঁটাই করছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই দেশজুড়ে তাদের নতুন শাখা বা ব্রাঞ্চ খোলার ধুম পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ৫২৮টি, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ২৩৪টি, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক প্রায় ৪০০টি এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক নতুন ১২৮টি শাখা খুলেছে। নতুন ব্রাঞ্চ বাড়লেও কর্মী সংখ্যা কেন কমছে?
ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট এবং ব্যাঙ্কগুলির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং পরিষেবার ধরণ এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগের মতো সাধারণ কাজের জন্য গ্রাহকদের আর ফিজিক্যাল ব্রাঞ্চে ভিড় করতে হয় না। অ্যাকাউন্ট খোলা, লোন বা ঋণ অনুমোদন থেকে শুরু করে ফিক্সড ডিপোজিট করার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হচ্ছে। তবে ডিজিটাল রূপান্তরের যুগেও রিলেশনশিপ ম্যানেজার, সেলস স্টাফ, ওয়েলথ অ্যাডভাইসর এবং বিভিন্ন বিশেষ ক্ষেত্র বা স্পেশালিস্টদের চাহিদা বজায় রয়েছে। সেই কারণেই পুরোনো শূন্যপদগুলিতে নতুন কর্মী নিয়োগের হার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি।