“আমি এই সভাকে সমর্থন করি না!” নিউ ইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, বিস্ফোরক মন্তব্য মেয়রের

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের আসন্ন আমেরিকা সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে তাঁর একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য রাখার কথা ছিল ভাগবতের। তবে তাঁর এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে মার্কিন মুলুকে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ইতিমধ্যেই ভাগবতের সফরে আপত্তি জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF) এবং ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর মতো একাধিক প্রভাবশালী সংগঠন। এবার সেই প্রতিবাদের সুর আরও চড়ালেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র, ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ়োহরান মামদানি। ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের এই সভাকে তিনি যে সমর্থন করেন না, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মেহমুদ মামদানির পুত্র জ়োহরান মামদানি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বা শহরের মেয়র হিসেবে ওই সভাকে সমর্থন করি না। তবে আইনগতভাবে ওই অনুষ্ঠান বাতিল করার এক্তিয়ার শহরের প্রশাসনের হাতে রয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। প্রথম ভারতীয়-মার্কিন মেয়র হিসেবে আমি এমন একটি ভারতকে চিনি, যেখানকার সমাজ বহুত্ববাদী, গণতান্ত্রিক এবং যেখানে প্রত্যেকের সমানাধিকার রয়েছে।”
ভাগবতের সভার তীব্র বিরোধিতা করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মতাদর্শের উত্থান যে কোনও দেশের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাই আমি এর তীব্র বিরোধী— শুধুমাত্র একজন ভারতীয়-মার্কিন হিসেবেই নয়, এই শহরের মেয়র হিসেবেও। আমাদের এই শহর ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ নির্বিশেষে এবং মানুষ যেখান থেকেই আসুক না কেন, সকলের পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাস করে।”
উল্লেখ্য, এর আগে কানাডাতেও মোহন ভাগবতের সফরের তীব্র বিরোধিতা দেখা গিয়েছিল। সেখানকার মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে দেশের সাংসদরা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছিল। এবার আমেরিকার মাটিতেও সেই একই প্রতিবাদের ছবি ধরা পড়ল। নিউ ইয়র্ক সিটি হলের বাইরে একাধিক সংগঠন যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে মোহন ভাগবতের সভা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি তুলেছে। এই প্রতিবাদী তালিকায় ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-এর মতো সংস্থাগুলি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে, এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে ‘ইউনিভার্সাল ওমনেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration)-নামের এই সভার আয়োজক ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর ডায়লগ’। আয়োজকদের দাবি, ‘গোটা বিশ্ব একটি পরিবার’—এই কালজয়ী এবং সর্বজনীন বার্তা পৌঁছে দিতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। কৃত্রিম বিভাজন ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের চেতনাকে শক্তিশালী করাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক স্তরে এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই সভা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় কি না।