‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ ডাক দিতেই রাহুল গান্ধীকে চরম কটাক্ষ কঙ্গনার! রাখি বিজ্ঞাপনের বিতর্ক গড়াল সোজা রাজনৈতিক ময়দানে

রাখি উৎসবের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পোশাক বিতর্ক এখন আর কেবল বিনোদন জগতের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা গড়িয়েছে এক্কেবারে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে। গহনা প্রস্তুতকারক সংস্থার একটি বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের (Kriti Sanon) পোশাক এবং উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন আরেক অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। এরপর কৃতির সমর্থনে আসরে নেমে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ কথা বলেন। আর রাহুলের সেই মন্তব্যেরই এবার কড়া ভাষায় জবাব দিলেন কঙ্গনা।

বিজেপির একটি অফিসিয়াল পোস্ট শেয়ার করে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

ঠিক কী নিয়ে এই রাজনৈতিক লড়াই?
সম্প্রতি একটি গহনা সংস্থার ৩৬ সেকেন্ডের রাখি বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা গিয়েছিল কৃতি শ্যাননকে। ভাইয়ের পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরানোর দৃশ্য এবং তাঁর পোশাক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু করেন কঙ্গনা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাখি বাঁধার মতো একটি পবিত্র উৎসবে কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হলো?

এর জবাবে কৃতি সাফ জানান, কোনো নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বা শ্রদ্ধা তাঁর পোশাক দিয়ে মাপা উচিত নয়। মহিলাদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর কথা বলেন তিনি। কৃতির এই বক্তব্যের পরেই তাঁর সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, কোনো মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করলেই নারীদের ট্রোল করা বন্ধ করার বার্তা দিয়ে তিনি ‘Smash the Patriarchy’ বা পিতৃতন্ত্র ভাঙার ডাক দেন।

কঙ্গনার পাল্টা আক্রমণে উঠে এল কংগ্রেসের অতীত প্রসঙ্গ
রাহুলের এই ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ স্লোগান এবং নারী স্বাধীনতার বার্তাটিকে হাতিয়ার করেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি এবং কঙ্গনা রানাওয়াত। যে পোস্টটি কঙ্গনা শেয়ার করেছেন, তাতে রাহুলের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিন তালাক প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পুরনো অবস্থান এবং শাহ বানো মামলার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলি টেনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্ণাটকের ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও নারী মন্ত্রী না থাকা নিয়েও রাহুলের নীতিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

বন্দে মাতরম বিতর্ক থেকে শুরু করে রাখি বিজ্ঞাপনের জামাকাপড়—সব মিলিয়ে কৃতির পোশাক নিয়ে শুরু হওয়া চর্চা এখন জাতীয় রাজনীতির দুই শিবিরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *