পুতিনের এক আশ্বাসে হুড়মুড়িয়ে চড়ল সার কোম্পানির শেয়ার! ১৩ শতাংশ লাফ দিতেই বিনিয়োগকারীদের পোয়াবারো

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে এল বড় স্বস্তির খবর। সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহের জোরালো আশ্বাস দিয়েছে মস্কো। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে হুড়মুড়িয়ে লাফ দিল দেশের সার উৎপাদক সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম। বাজারের সামগ্রিক নিস্তেজ পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন বিভিন্ন সার কোম্পানির শেয়ার ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার সকালের ট্রেডিং সেশনে দ্য ফার্টিলাইজার্স অ্যান্ড কেমিক্যালস ট্রাভাঙ্কোর (FACT)-এর শেয়ারের দাম একলাফে প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শেয়ার প্রতি ৮৮৭ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্টিলাইজার্স (RCF)-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ, পারাদীপ ফসফেটস-এর শেয়ার ৭ শতাংশের বেশি এবং চম্বল ফার্টিলাইজার্স অ্যান্ড কেমিক্যালস-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের প্রতি রাশিয়ার বড় প্রতিশ্রুতি
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা TASS সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রেমলিনে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যতই বিঘ্ন ঘটুক না কেন, ভারত যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি ও সার পেতে পারে, তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করবে রাশিয়া। পুতিন বলেছেন, “আমরা ভারতীয় কৃষক ও দেশের কৃষি খাতের চাহিদা সম্পূর্ণরূপে মেটাতে, জোগান বাড়াতে এবং তা অবিচ্ছিন্ন রাখতে সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ করছি।”

বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা পৌঁছে দিয়ে জানান, আগামী দিনে এসসিও সম্মেলন এবং ব্রিকস সম্মেলনে রুশ রাষ্ট্রপতিকে ভারতে স্বাগত জানাতে এবং বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে ভারত। দুই দেশের এই সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কই বর্তমান সংকটের দিনে বাজারকে বাড়তি ভরসা জুগিয়েছে।

বাড়ছে সরকারের সার ভর্তুকির বোঝা
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পণ্য ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির (LNG) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের রাজকোষেও চাপ বাড়ছে। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই সরকার তার বার্ষিক সার ভর্তুকির প্রায় ৫৬ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। এই ৯৯,০০০ কোটি টাকার বর্ধিত ব্যয়ের জেরে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, চলতি অর্থবর্ষ শেষে মোট সার ভর্তুকির পরিমাণ ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশে জটিল সার বা এনপি/এনপিকে (NP/NPK) সারের উৎপাদন ও আমদানিতে বড় রকমের পতন দেখা দিয়েছিল। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FAI)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এই সারগুলির উৎপাদন ২৮ শতাংশ কমে ১৯.২ লক্ষ টনে নেমে এসেছে এবং আমদানি প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৪৯ মিলিয়ন টনে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে প্রধান কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি ফসল বপন মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

যদিও সরকার খরিফ মৌসুমের জন্য পুষ্টি উপাদানের ভর্তুকি হার ১০ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে মোট ৪১,৫৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, তবুও বিশ্ববাজারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল শিল্পমহল। তবে ক্রেমলিন থেকে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহের এই নতুন আশ্বাস পাওয়ার পর দেশের কৃষি ও সার বাজারের আস্থায় যে ফের বড় ধাক্কা লেগেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *