শ্রীশৈলমে মর্মান্তিক পরিণতি! লজের ঘর থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

অন্ধ্রপ্রদেশের নন্দিয়াল জেলার শ্রীশৈলমের একটি বেসরকারি তীর্থযাত্রী আবাসে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, তীব্র আর্থিক অনটনের জেরে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য একসঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রী সত্য সাই জেলার বাত্তালাপল্লি গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারটি গত মাসের ২৮ তারিখে একটি অটোরিকশায় চড়ে সেখানে পৌঁছায় এবং লজের ১১ নম্বর ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত বাইরে গেলেও সম্প্রতি টানা তিন দিন ধরে ঘর থেকে কেউ বের হননি। এরপরই ঘরটির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় লজের ম্যানেজার জানলা দিয়ে উঁকি মেরে ভেতর পাঁচজনের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান। আতঙ্কিত ম্যানেজার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীশৈলম থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিএসপি রমনজি নায়েকের তত্ত্বাবধানে ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘর খোলার পর বাথরুমের ভেতর থেকে তিন জন মহিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, এক পুরুষ এবং এক ১৫ বছর বয়সি কিশোর সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে—সুধাকর (৩৬), গোগুলা আদিলক্ষ্মী (৫০), মল্লেশ্বরী (৪৫), শ্রীদেবী (৩৩) এবং মণিকান্ত (১৫) হিসেবে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝাই এই চরম পথ বেছে নিতে তাদের বাধ্য করেছিল।

তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মৃতদের মধ্যে তিন নারী ছিলেন পরস্পর বোন। যাঁদের মধ্যে দুজনকে তাঁদের স্বামীরা পরিত্যাগ করেছিলেন এবং অন্য একজন ছিলেন অবিবাহিত। বোনদের সঙ্গেই ওই কিশোর সন্তানও ছিল। ঘটনার ভয়াব্যতা দেখে শ্রীশৈলম দেবস্থানমের চেয়ারম্যান পোথুগুন্টা রমেশ নাইডু এবং কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (ইও) শ্রীনিবাসরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে, তীর্থযাত্রীদের বিশ্রামাগার বা ‘বদ্দে সত্রম’-এর ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কীভাবে ওই পরিবারটিকে লজে থাকতে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। লজ কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে এবং এলাকার বাকি লজগুলিকে কড়া নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই গণ-আত্মহত্যার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *