সরকারি জলের গাড়িতে মন্ত্রীর দলের বিধায়কের বিলাসবহুল গাড়ি সাফ! মধ্যপ্রদেশের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল

সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সিংরৌলিতে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জরুরি পরিষেবা তথা ফায়ার ব্রিগেডের জল দিয়ে বিজেপি বিধায়ক রামनिवास শাহের ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে হু হু করে ভাইরাল হয়েছে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের একটি ফায়ার ফাইটিং বা জলের গাড়ি থেকে পাইপ বের করে এক বিধায়কের গাড়ি পরিষ্কার করা হচ্ছে। ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা জল স্প্রে করে গাড়িটি ধুয়ে দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, চাঞ্চল্যকর এই ভিডিওটি খোদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার সবিতা প্রধানের সরকারি বাসভবনের বাইরের। যদিও এই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
যেখানে ফায়ার ব্রিগেডের মূল দায়িত্ব হলো যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা, সেখানে সেই জরুরি পরিষেবার গাড়ি কীভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি ধোওয়ার কাজে ব্যবহার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। কোনোরকম সরকারি অনুমতি ছাড়া এ ধরনের অপব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া আরও একটি বড় প্রশ্ন উঠছে যে, বিধায়কের গাড়িটি ঠিক কী কারণে কমিশনারের সরকারি বাসভবনে উপস্থিত ছিল?

মুখ খুলতে নারাজ প্রশাসন
এই বিষয়ে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার সবিতা প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমি এই বিষয়ে কিচ্ছু বলব না।” প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকের এমন রহস্যজনক নীরবতা সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদি সমস্ত নিয়ম মেনেই সরকারি সম্পদের ব্যবহার হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে স্পষ্ট করতে রাখঢাক কেন—সেই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক রামनिवास শাহের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কার নির্দেশে এবং ঠিক কোন মৌখিক বা লিখিত অনুমতিতে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি কমিশনারের বাসভবনে পৌঁছাল, তা নিয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *