নদীগর্ভে গোটা পরিবারের সলিলসমাধি! পকেট থেকে বেরোতেই চিঠির চাঞ্চল্যকর তথ্যে শিউরে উঠল পুলিশ

খরস্রোতা নদীতে গোটা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক ইঞ্জিনিয়ার। ভাগ্যের জোরে শুধু তাঁর দশ বছরের নাতি বেঁচে গেলেও নদীর জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় বাকিদের। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর মৃত ওই ইঞ্জিনিয়ারের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিই ঘুরিয়ে দিল মামলার পুরো মোড়। দীর্ঘ পাঁচ রাজ্য ঘুরে অবশেষে সেই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। পুলিশ জানিয়েছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে গোদাবরী নদীতে সপরিবারে ঝাঁপ দেন থিল্লাপুড়ি নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা, মেয়ে সৌজন্যা এবং তাঁদের দশ বছরের নাতি। নদী থেকে এক মৎস্যজীবী ওই নাবালককে কোনোরকমে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, ওই ইঞ্জিনিয়ার, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মৃতদেহ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা হয়।

এই চরম পদক্ষেপের ঠিক আগেই মৃত ইঞ্জিনিয়ারের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট বা চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই চিঠিতে তাঁর নাতির স্কুলের রাইফেল শুটিং কোচের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিস্ফোরক সব অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত শেখ সাদিক খান মৃত ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারকে লাগাতার ধর্ম পরিবর্তনের জন্য জোরাজুরি ও নানাভাবে হেনস্থা করতেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পরই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। তাকে ধরতে আসরে নামে পুলিশ। দেশের পাঁচটি আলাদা রাজ্যে মোট ১০টি পুলিশের বিশেষ দল তল্লাশি অভিযান চালায়। অবশেষে উত্তরপ্রদেশের মীরাট থেকে অভিযুক্ত সাদিককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সঙ্গে গত দু’বছর ধরে পরিচিত ছিল এই সাদিক।

পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাদিক আসলে দশ জনের একটি অপরাধী চক্রের সদস্য, যারা বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে সাধারণ মানুষকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানোর জন্য হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করত। এই চক্রটি ইতিমধ্যেই ১৫টি পরিবারকে টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে ওই ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারও ছিল।

গোটা ঘটনায় যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর হওয়ায় মামলাটি সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-এর হাতে হস্তান্তরিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে অভিযুক্ত সাদিক। তাকে দফায় দফায় জেরা করে এই আন্তঃরাজ্য চক্রের অন্য মাথাদের খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *