৫ শ্রেণীর দায়িত্বে মাত্র ১ শিক্ষিকা, অবসরের পরই কি বন্ধ হয়ে যাবে স্কুল?

পূর্ব কাটোয়ার করজগ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধমুড়ো মাঠপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে একসময় চারজন শিক্ষক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হয়ে পড়েছে সমস্ত পদ। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট পঞ্চাশজন পড়ুয়ার পঠনপাঠন এবং বিদ্যালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ এককহাতে সামলাচ্ছেন একমাত্র শিক্ষিকা হুসনে আফিফা। আগামী মাসেই তাঁর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।

বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিকাঠামো অত্যন্ত বেহাল ও শোচনীয়। বিদ্যালয়ের একমাত্র টিউবওয়েলটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকায় পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ি থেকে জল বয়ে এনে মিড-ডে মিলের রান্না করতে হয়। এর পাশাপাশি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে মিড-ডে মিলের রান্নাঘরটি। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে চাঙড় খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে, যা শিক্ষক ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

একমাত্র শিক্ষিকাকে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির শিশুদের পড়াতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের ছোটদের পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে তাঁকে। এর জেরে পড়াশোনার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায়শই তাঁকে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে যেতে হয়, যার ফলে সেই সময় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে স্কুলের পাঠদান।

গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্রামের অন্য প্রাথমিক স্কুলটি প্রায় দু কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সেখানকার যাতায়াতের রাস্তা অত্যন্ত দুর্গম। ছোট ছেলেমেয়েদের এত দূরে পাঠানো অভিভাবকদর পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বহু অভিভাবক ইতিমধ্যে বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।

অভিভাবকদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে এই বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং পরিকাঠামোর আমূল সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় আগামী মাসেই একমাত্র শিক্ষিকার অবসরের পর ৫০ জন পড়ুয়ার শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাবে এবং বন্ধ হয়ে যাবে এই গ্রামীণ বিদ্যালয়টি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *