পাইকারিতে ৮০০ টাকা পতন! এবার কি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও কমবে চিনির ঝাঁঝ?

কেন্দ্র সরকার ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি মজুতদারি ও স্টক কারসাজির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পর গত কয়েক দিনে পাইকারি চিনির দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরো বাজারে এখনও চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৭৫ টাকায় আটকে রয়েছে, ফলে পাইকারি দাম হ্রাসের সুফল এখনও পুরোপুরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছয়নি।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দিনে পাইকারি চিনির দাম প্রতি কুইন্টালে প্রায় ৮০০ টাকা কমেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৬২ টাকা। শিল্পমহল ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত কারবারিদের মতে, আগামী কয়েক দিনে দাম আরও প্রতি কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৬ লক্ষ টন চিনি মজুত রয়েছে। নতুন করে চিনি আমদানির পাশাপাশি এই পর্যাপ্ত মজুতের মাধ্যমে পরবর্তী মরসুমের ক্রাশিং শুরু হওয়া পর্যন্ত বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
মূলত ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরই সাম্প্রতিক এই দাম কমার প্রবণতা শুরু হয়েছে। দেশে চিনির সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়ানো এবং দাম যাতে লাগামছাড়া না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চিনির মজুতের উপর নজরদারি বাড়িয়ে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। সরকারের দাবি, পর্যাপ্ত মজুত ও নতুন আমদানির ফলে বাজারের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো যাবে। চিনি শিল্পের শীর্ষ সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)-ও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দেশে আসলে চিনির কোনও ঘাটতি নেই।
ISMA-র মতে, সম্প্রতি চিনির দাম যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছিল, তা একেবারেই স্বাভাবিক ছিল না। এর নেপথ্যে বড় ক্রেতাদের অতিরিক্ত মজুতদারি এবং অনুমানভিত্তিক কারসাজি দায়ী ছিল। সংগঠনটি খুচরো দামের যৌক্তিকীকরণের জোরালো দাবি জানিয়েছে এবং সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের পর আগামী দিনে বাজারদর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণেই দেশে সরবরাহে টান পড়েছে—এই তত্ত্বও খারিজ করেছে ISMA।
তবে পাইকারি বাজারে বড়সড় পতন ঘটলেও খুচরো বাজারে ক্রেতাদের এখনও প্রতি কেজি প্রায় ৭৫ টাকায় চিনি কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা, খুচরো বিক্রেতারা আগের বেশি দামে কেনা পুরনো স্টক এখনও বিক্রি করছেন। সেই পুরনো মজুত শেষ হয়ে নতুন কম দামের চিনি বাজারে পৌঁছলেই পাইকারি হ্রাসের ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে। এদিকে, বাজার ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে স্বাভিমানি শেতকারি সংগঠন ২০২৫-২৬ মরসুমে প্রতি টন আখ মাড়াইয়ের জন্য চিনি কলগুলির কাছ থেকে কৃষকদের অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেছে।