স্কুলে হিজাব পরা যাবে না! এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ধাক্কা মুসলিম ছাত্রীর

স্কুলের পোশাকের (ইউনিফর্ম) সঙ্গে হিজাব বা মাথায় স্কার্ফ পরার অনুমতি চেয়ে করা এক মুসলিম ছাত্রীর আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, মাথা ঢেকে রাখা কোনও অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা নয়। ফলে স্কুলের নিজস্ব নিয়ম এবং শৃঙ্খলার খাতিরে নির্ধারিত ড্রেস কোড মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
বিচারপতি জে. জে. মুনির এবং বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সুকাইনা রিজভি নামের একাদশ শ্রেণির ওই নাবালিকা ছাত্রীর দায়ের করা পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। প্রয়াগরাজের টেগোর পাবলিক স্কুলের এই ছাত্রীটি দাবি করেছিল যে, ক্লাস চলাকালীন মাথায় স্কার্ফ পরা তার ধর্মীয় অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তবে বিচারকরা উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার জন্য অভিন্ন পোশাকবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দের ওপর ভিত্তি করে কেউ স্কুল ড্রেসে বিশেষ ছাড় দাবি করতে পারে না। আদালত এও জানায় যে, অতীতে যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে নমনীয় মনোভাব দেখিয়ে থাকে, তার অর্থ এই নয় যে তারা ভবিষ্যতেও এই শিথিলতা বজায় রাখতে বাধ্য থাকবে।
রায়ে কর্ণাটক, কেরল এবং বোম্বে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় ও বিচার্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আদালত পরিষ্কার করে দেয় যে, ইসলাম ধর্মে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক বা অপরিহার্য অঙ্গ নয়, এমন কোনো জোরালো প্রমাণ বা তথ্য আবেদনকারী পেশ করতে পারেননি। শিক্ষাঙ্গনে ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিন্ন পোশাকবিধির ভূমিকা অপরিসীম। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই এক্তিয়ার রয়েছে যে তারা সমস্ত শিক্ষার্থীর ওপর কোনো বৈষম্য ছাড়াই সমানভাবে ইউনিফর্ম নীতি কার্যকর করতে পারে। এই রায়ের ফলে স্কুলগুলিতে নিজস্ব নিয়মের পরিধি আরও সুদৃঢ় হলো বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।