সাদা গাড়িতে ৩৪০০ চুমুর দাগ! লিপস্টিকের এমন কান্ড দেখে মাথায় হাত পুলিশের

কবীর সুমন লিখেছিলেন, “বিশ্বাস রাখি ঠোঁটে ঠোঁটে রেখে মরে যাওয়া ভালবেসে…”। কিন্তু প্রেমিকার চুমুতে অন্ধ বিশ্বাস রাখতে গিয়ে প্রেমিকের পকেট থেকে যে এক ধাক্কায় কড়কড়ে নোট বেরিয়ে যাবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি মধ্যপ্রদেশের এক যুবক। সাদা রঙের একটি গাড়ির সারা গায়ে লাল লিপস্টিকের হাজার হাজার নিশান দেখে ট্রাফিক পুলিশের চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার এক অদ্ভুত নেশা আর অদ্ভুত এক প্রেমের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে আইনি জালের ফাঁদে ফেলল, তা এখন টক অফ দ্য টাউন।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের ‘গোলা কা মন্দির’ ট্রাফিক থানা এলাকায়। রাস্তায় দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকা একটি গাড়িকে প্রথমে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আটকায় পুলিশ। কিন্তু গাড়িটির কাছে গিয়ে কর্তব্যরত আধিকারিকরা যা দেখতে পান, তা তাঁদের সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ করে দেয়। দেখা যায়, ঝকঝকে সাদা রঙের ওই গাড়িটির বনেট, দরজা, বুট ও পিলারের আনাচে-কানাচে যত্ন সহকারে এঁকে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য চুমুর দাগ। একটি বা দুটি নয়, আস্ত গাড়িটি জুড়ে রয়েছে ঠিক ৩৪০০টি লাল লিপস্টিকের নিশান! লিপস্টিকের গাঢ় ছোঁয়ায় সাদা গাড়িটি যেন এক জীবন্ত ক্যানভাসে পরিণত হয়েছিল। পথচলতি মানুষও এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ান এবং অনেকেই তা ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছবি ও ভিডিয়ো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে নেটদুনিয়ায় গাড়িটি এখন ‘কিসিং কার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গাড়িটির মালিক গ্বালিয়রেরই বাসিন্দা আদিত্য শিকারওয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমিকার সঙ্গে বেশ সক্রিয় তিনি। ইন্টারনেটের একটি ট্রেন্ড অন্ধের মতো অনুসরণ করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন ওই তরুণী। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে গুনে গুনে গাড়িটিতে মোট ৩৪০০টি চুমুর দাগ এঁকে দেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি ভিডিয়ো আপলোড হতেই তা ঝড় তোলে এবং প্রথম দিনেই ৫৫ লক্ষের বেশি ভিউ কুড়িয়ে নেয়।

তবে এই অন্ধ প্রচার এবং ভাইরাল হওয়ার মোহই কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিয়োয় গাড়িটির বেপরোয়া গতি ও স্টান্টবাজি প্রশাসনের নজরে আসে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে শেষ পর্যন্ত ওই গাড়িটির নামে ৫৫০০ টাকার মোটা অঙ্কের চালান কাটে পুলিশ। শুধু তাই নয়, পুলিশের কড়া নির্দেশে গাড়ির বডি থেকে ওই সমস্ত লিপস্টিকের দাগ তুলে ফেলতে বাধ্য হন ওই যুবক। একই সঙ্গে গাড়ির কাচে সাঁটানো বিতর্কিত ‘ঠাকুর’ লেখাও স্টিকারও জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি থানায় ডেকে ওই যুবককে কান ধরে ক্ষমা চাওয়ানো হয় বলেও খবর। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক বা ভিউ পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমে ট্রাফিক আইন ভাঙলে বা জনবহুল রাস্তায় এমন অসংযত আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভাইরাল হওয়ার চক্করে করা এই বোকামির জেসেশ্বয় মাশুল গুনতে হয়েছে ওই তরুণকে, যা এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *