মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস সফর ও গ্যাস সিলিন্ডার, বড় ঘোষণা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে একঝাঁক বড় ঘোষণা করলেন তিনি। বিশেষ করে নারী সমাজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের পরিবর্ধন ও নতুন সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত একটি বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল করারও ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য বাস সফর আরও সহজ ও সম্পূর্ণ ফ্রিবিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের চালু করা বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের স্কিম বা ‘ভেট্রি পায়ানম’ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এখন থেকে মহিলারা কেবল সাধারণ বাসেই নয়, বরং মেট্রোপলিটন ও শহরাঞ্চলের সরকারি এক্সপ্রেস, এলএসএস এবং ডিলাক্স বাসেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া দূরপাল্লা বা পাহাড়ি এলাকার রুটেও এই সুবিধা মিলবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো আয়সীমা বা যাতায়াতের সংখ্যার কোনো কড়াকড়ি বা শর্ত রাখা হয়নি। এমনকি এই সুযোগ পাবেন রূপান্তরকামী ব্যক্তিরাও। আগামী গান্ধী জয়ন্তী অর্থাৎ ২ অক্টোবর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। ‘অন্নপূর্ণা সুপার সিক্স’ প্রকল্পের আওতায় ফ্রি গ্যাস সিলিন্ডারনির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যবাসীর আর্থিক চাপ কমাতে ‘অন্নপূর্ণা সুপার সিক্স’ (Annapoorani Super Six) প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে প্রতি বছর তিনটি করে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে চালু হতে যাওয়া এই সুবিধার মাধ্যমে সিলিন্ডারের দাম সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সাধারণত যাঁদের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার নিচে, রাজ্যের এমন প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের সুফল পাবে বলে জানা গিয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে পঙ্গু উৎসবের সময় থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বাতিল হলো পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্পজনকল্যাণমূলক এই ঘোষণার পাশাপাশি চেন্নাইয়ের কাছে প্রস্তাবিত বিতর্কিত পারান্দুর গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাতিল করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং তাঁদের প্রতিবাদের প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষের বসতি যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেই আগামী দিনে বিকল্প জায়গায় এই প্রকল্পের কথা ভাবা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজয়ের এই একর পর এক জনমোহনী ও সাহসী পদক্ষেপ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *