শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অকথ্য অত্যাচার! স্ত্রীর ভাইদের মারধরে প্রাণ হারায়েও গেলেন নয়ডার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

সাধারণত গার্হস্থ্য হিংসা ও বধূ নির্যাতনের খবরের শিরোনামে থাকে শ্বশুরবাড়ি। তবে এবার দিল্লির নিহাল বিহার এলাকা থেকে সামনে এল তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এক মর্মান্তিক চিত্র। স্ত্রীর পরকীয়া বা পারিবারিক অশান্তির জেরে বাপের বাড়ির লোকজনের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হলো নয়ডার এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে। মৃত যুবকের নাম বিনয় গুপ্তা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল নিহাল বিহারে?
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই বিনয় গুপ্তার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সেই অশান্তি চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, ঝামেলার জেরে স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিজের বাপের বাড়ির লোকজনকে ডেকে পাঠান। এরপর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে বিনয়কে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর ও সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আউটার ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি বিক্রম মিনা জানান, “শুক্রবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির জেরে স্ত্রী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডেকে আনেন। তাঁরা বিনয় গুপ্তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহাল বিহার থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।” নিহত বিনয় নয়ডার একটি বেসরকারি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কী বলছেন নিহত যুবকের মা?
চোখে জল নিয়ে শোকার্ত মা রেনু গুপ্তা জানান, সাড়ে তিন বছর আগে বিনয়ের বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু ভোরবেলা পুত্রবধূ বাড়ি থেকে বেরিয়ে তার দুই ভাইকে ডেকে আনে। ওরা ঘরে ঢুকেই আমার ছেলেকে জাপটে ধরে। আমার স্বামী ওদের হাত জোড় করে অনুরোধ করলেও ওরা শোনেনি। ছোট ভাই ও বড় ভাই মিলে আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। চুলের মুঠি ধরে এবং গলার টুঁটি চেপে মেঝেতে আছড়ে ফেলে দেয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি আগে থেকেই বন্ধ করা ছিল। তাঁর সন্দেহ, পুত্রবধূ সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেই এই কায়দায় হামলা চালিয়েছিল।
পুরুষদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক অতীতে গার্হস্থ্য হিংসার বেশিরভাগ ঘটনায় স্ত্রীদের ওপর নিগ্রহের খবরই সামনে আসে। কিন্তু দিল্লির এই ঘটনা প্রমাণ করল, পারিবারিক হিংসা ও নির্মমতার শিকার হতে পারেন পুরুষরাও। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।