ইংরেজি কি ‘অ-স্থানীয়’ ভাষা? CBSE-র ত্রিভাষা নীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

সিবিএসই (CBSE)-র ত্রিভাষা নীতি এবং নতুন সার্কুলারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াইয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নীতি প্রণয়ন ভুল না হলেও তা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও বাস্তব দিকগুলো খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

‘নেটিভ’ বা ‘অ-স্থানীয়’ শব্দ নিয়ে আপত্তি বিচারপতির শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, ইংরেজিকে ‘নন-নেটিভ’ বা ‘অ-স্থানীয়’ ভাষা বলার ভিত্তিটা ঠিক কী? তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের অনেক রাজ্যেই ইংরেজি সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং কেন্দ্র সরকার ও আদালতের কাজও মূলত ইংরেজিতেই চলে। বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, “‘নেটিভ’ শব্দটার সঙ্গেই ঔপনিবেশিকতার ইতিহাস জড়িয়ে আছে।” এর বদলে ‘ইন্ডিজেনাস’ বা দেশীয় ভাষা শব্দ ব্যবহার করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার পরামর্শও দেন তিনি।

ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ আবেদনকারীদের পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে জানান, নতুন নীতির ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ পড়ুয়া প্রভাবিত হতে পারে এবং মাঝপথে তাদের পছন্দের ভাষা ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানতে চায়, ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের ওপর এখনই এই নিয়ম না চাপিয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায় কিনা। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা (যার অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা হতে হবে) পড়ার যে নির্দেশ সিবিএসই দিয়েছে, তাতে পড়ুয়াদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালত।

শিক্ষক ও পাঠ্যবইয়ের পরিকাঠামো নিয়ে কড়া প্রশ্ন সিবিএসই-র তালিকায় ২৩টি ভাষা থাকলেও দেশের সমস্ত স্কুলে সেগুলি পড়ানোর মতো পরিকাঠামো, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং পাঠ্যবই আদৌ উপলব্ধ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নির্দেশ দিয়েছেন যে, নীতি কার্যকর করার আগে সম্ভাব্য সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে কেন্দ্র, সিবিএসই এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আপাতত সমস্ত দিক পুনর্বিবেচনা করে একটি স্পষ্ট রূপরেখা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *