পরিচ্ছন্নতায় ‘শূন্য’! বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হঠাৎ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে উঠে এল একাধিক গাফিলতির ছবি। হাসপাতাল চত্বরের বেহাল পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নত করতে এদিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও প্রস্তাব দিয়েছেন মন্ত্রী।

পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বেহাল দশা হাসপাতাল পরিদর্শনের পর পরিচ্ছন্নতার নিরিখে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজকে ‘দশে শূন্য’ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতি ১০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, এক-তৃতীয়াংশ মহিলা নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট বোর্ডে গণতান্ত্রিক উপায়ে মতপ্রকাশের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘আসি যাই মাইনে পাই—এই কালচার আর চলবে না। কর্মীদের উপস্থিতির জন্য আধার-সংযুক্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করতে হবে।’’

নতুন প্রকল্পের ঘোষণা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি মেটাতে মন্ত্রী স্থানীয়ভাবে অভিজ্ঞ বেসরকারি চিকিৎসক ও সিনিয়র রেসিডেন্টদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েকদিন যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে ও রোগী পরিবহনে স্বচ্ছতা আনতে ওলা-উবারের আদলে অ্যাপ-ভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এছাড়া, রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের শনাক্তকরণের জন্য ব্যাজ ব্যবস্থাও চালুর কথা ভাবছে স্বাস্থ্যভবন।

আলোচনায় ইতিবাচক সুর মেডিক্যাল কলেজের দেওয়ালে দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিতি নিয়ে আগে কিছুটা কড়া অবস্থান নিলেও, এদিন আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা সুর নরম করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেওয়াল নষ্ট না করে নির্দিষ্ট বোর্ডে দাবিদাওয়ার কথা জানানো উচিত। এদিন তিনি পড়ুয়া প্রতিনিধি, নার্সিং স্টাফ এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সমস্যাগুলোও শোনেন।

পরিকাঠামোগত অসুবিধার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মেডিক্যাল কলেজের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ মুখোপাধ্যায় জানান, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং সকলের সহযোগিতাতেই হাসপাতালের অচলাবস্থা কাটানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতাকে ঘিরে চিকিৎসক মহলে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *