স্কুল চত্বরে মিলল মদের বোতল! সরকারি স্কুলের বেহাল দশা দেখে যা বললেন এই নেতা, তা শুনলে চমকে উঠবেন

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে জাতীয় স্তরে আলোচনায় এসেছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। এবার তাঁর মূল লক্ষ্য বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান নিয়ে গিয়ে সেখানকার একটি সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।
স্কুল পরিদর্শনে কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল?
বৃহস্পতিবার লাতুর জেলার আওসা এলাকার একটি জেলা পরিষদ স্কুল পরিদর্শনে যান অভিজিৎ দিপকে। সেখানে গিয়েই তিনি স্কুলের বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, স্কুলে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা তো নেইই, এমনকি শৌচাগারের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁর দাবি, তিনি পরিদর্শনে যাওয়ার ঠিক আগেই তাড়াহুড়ো করে শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং মিড-ডে মিলের জন্য নতুন থালা এনে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্কুল চত্বর থেকে একটি মদের বোতল উদ্ধার হওয়ার দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, সুশৃঙ্খলভাবে স্কুল দেখানোর জন্য অন্য স্কুলের ছাত্রদের এনে সেদিন বসানো হয়েছিল। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “একজন মন্ত্রীর কুকুরও পড়ুয়াদের থেকে ভালো সুযোগ-সুবিধা পায়!” এই ঘটনার পরই মহারাষ্ট্রের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দাদাজি ভুসের পদত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্লক শিক্ষা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তিনি।
স্কুল কর্তৃপক্ষের সাফাই
অভিজিতের আনা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য একসুরে খারিজ করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক স্পষ্ট জানিয়েছেন, একই ভবনে মারাঠি এবং উর্দু—দুটি আলাদা মাধ্যম পরিচালিত হয়। ফলে বাইরে থেকে ছাত্র এনে বসানোর অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেদিন উপস্থিত সমস্ত পড়ুয়ারা ওই স্কুলেরই নিয়মিত ছাত্র। এছাড়া নতুন মিড-ডে মিলের থালা আনার দাবিও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, এই ঘটনার পর সিজেপি (CJP) জানিয়েছে যে লাতুর জেলার সরকারি ও পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলিতে এবার থেকে সামাজিক অডিট বা সোশ্যাল অডিট চালানো হবে। পানীয় জল, শৌচাগার, নিরাপত্তা, মিড-ডে মিল এবং সরকারি প্রকল্প সহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই অডিটের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।