“৬ মাস অপেক্ষা করুন, সব বদলে যাবে!” যাদবপুর থেকে সীমান্ত ইস্যু, একযোগে বিস্ফোরণ দিলীপ ঘোষের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং রাজ্যজুড়ে চলা দেশবিরোধী স্লোগানকে কেন্দ্র করে ফের একবার সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শুধু যাদবপুর নয়, ঘাটালের ‘কাটমানি’ বিতর্ক থেকে শুরু করে সীমান্ত পরিস্থিতি—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন তিনি।

“দেশবিরোধীদের পুষে রেখেছে তৃণমূল!”
যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান ওঠার প্রসঙ্গে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যখনই এরকম কিছু হয়, বাকিরা প্রতিবাদ পর্যন্ত করার সাহস দেখায় না। আসলে টিএমসি এই দেশবিরোধীদের পুষে রেখেছে।” তাঁর দাবি, যাদবপুরে অতীতে এসএফআই-এর অফিস ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের দেশবিরোধী কার্যকলাপ চললে বিজেপি তার যোগ্য জবাব দেবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “পরিবর্তন হয়েছে, সবকিছুই হবে। আপনারা শুধু আর মাত্র ছয় মাস অপেক্ষা করুন।”

ঘাটালের পোস্টার ও কাটমানি বিতর্ক
ঘাটালজুড়ে অভিনেতা-সাংসদ দেবের বিরুদ্ধে ওঠা ‘কাটমানি’ নেওয়ার পোস্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তবে তিনি নিজে গিয়ে খোঁজ নেবেন। তাঁর প্রশ্ন, “কাটমানি কে খাচ্ছে, কেন খাচ্ছে আর পোস্টারই বা কে মারছে?” শুধু পোস্টার মারলে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, জাকির হোসেনের ভাইয়ের গ্রেফতারি ও এসটিএফের অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ১০-১৫ বছর ধরে রাজ্যে যে দেশবিরোধী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, তা এখন শেষের পথে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সীমান্ত সমস্যা মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্তে ফেন্সিংয়ের কাজ গতি পেয়েছে। প্রায় ২৫২ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিংয়ের কাজ চলছে এবং অবশিষ্ট ৫০ কিলোমিটার নিয়ে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, বাজারে চাল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কিছু জায়গায় সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “কৃষকদের ন্যায্য দাম দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই বাজারে কালোবাজারি রুখতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।” চিনির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ইথানল উৎপাদনের কোনো যোগ আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান, আখ চাষিদের স্বার্থেই ইথানল উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এতে চিনির বাজারে বড় সংকট হওয়ার কথা নয়।

সামগ্রিকভাবে এদিন দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যগুলি রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও কিছুটা চড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *