শেয়ার বাজারে জুয়া খেলছেন? সেবির এই ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দেখলে আজই অপশন্স ট্রেডিং বন্ধ করবেন!

শেয়ার বাজারের দুনিয়ায় ইদানীং তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত—সবার মাঝেই ফিউচার অ্যান্ড অপশন্স (F&O) বা অপশন ট্রেডিংয়ের ক্রেজ আকাশছোঁয়া। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে এই বাজারে নামছেন লক্ষ লক্ষ খুচরো বা রিটেল লগ্নিকারী। কিন্তু এই রঙিন পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারের যে ছবি এবার সামনে এনেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI), তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। সেবির সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্ট জানাচ্ছে, শেয়ার বাজারের অপশন ট্রেডিং কোনো সহজ খেলা নয়, বরং এটি এক কঠিন ও নির্মম লড়াই, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
অপশন বাইয়িং বনাম অপশন সেলিং: আসল মারপ্যাঁচ কোথায়?
সেবির রিপোর্ট বলছে, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ খুচরো লগ্নিকারী মূলত ‘অপশন বায়িং’ বা কম খরচে অপশন কেনার কৌশলকেই বেছে নেন। অন্যদিকে, মাত্র ২ শতাংশ ট্রেডার ‘অপশন সেলিং’ বা অপশন বিক্রির রাস্তা ধরেন। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মাত্র ২ শতাংশ লগ্নিকারীই তাঁদের মূলধনের তুলনায় ইতিবাচক বা পজিটিভ রিটার্ন ঘরে তুলতে পেরেছেন।
সহজ কথায় বলতে গেলে, যাঁরা অপশন বিক্রি করেন, তাঁরাই মূলত লাভের মুখ দেখছেন। আর যাঁরা হামেশা অপশন কিনছেন, তাঁদের সিংহভাগই ক্যাপিটাল খুইয়ে লোকসানের চোরাবালিতে ডুবছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন বারবার অপশন কেনার দিকেই ঝোঁকেন? এর পেছনে মূল কারণ হলো—এতে প্রাথমিক বিনিয়োগের খরচ অনেক কম লাগে এবং তাত্ত্বিকভাবে লাভের অঙ্ক বড় দেখায়। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো।
কারা পকেট ভরাট করছেন, আর কারা ডুবছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা অপশন বিক্রি করেন, তাঁরা সাধারণত কোনো সাধারণ খুচরো ট্রেডার নন। এর পেছনে থাকে বড় বড় ব্রোকারেজ হাউস, পোড় খাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারী বা অভিজ্ঞ ট্রেডাররা। এঁদের হাতে থাকে প্রচুর মূলধন, ঝুঁকি সামলানোর পাকা কৌশল এবং সর্বাধুনিক কম্পিউটার-চালিত অ্যালগো ট্রেডিং সিস্টেম।
এর বিপরীতে, সাধারণ খুচরো লগ্নিকারীরা প্রায়শই আবেগতাড়িত হয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার টিপস বা বিভিন্ন গুজবের বশে অন্ধের মতো অপশন কিনে বসেন। বাজারের ঝড়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন না এবং বারবার মার খেয়ে মূলধন খুইয়ে বসেন। সেবির রিপোর্টে উঠে এসেছে, ট্রেডিংয়ের ‘ইনটেনসিটি’ বা যত ঘন ঘন বড় অঙ্কে লেনদেন করা হয়, ক্ষতির ঝুঁকি ততটাই মারাত্মকভাবে বাড়তে থাকে। আর এই বদঅভ্যাসটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তরুণ এবং স্বল্প পুঁজির লগ্নিকারীদের মধ্যেই।
অভিজ্ঞতা বাড়লেও কি লোকসান কমে?
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারে বছরের পর বছর ধরে ট্রেডিং করার অভিজ্ঞতা বাড়লেও লগ্নিকারীদের লোকসানের ট্রেন্ড একটুও কমছে না। সমীক্ষা বলছে, যাঁরা টানা দু’বছর বড় অঙ্কের লোকসান করেও জেদের বশে লেনদেন চালিয়ে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই তৃতীয় বছরে এসেও সর্বস্বান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, ‘বাজারের অভিজ্ঞতা বাড়লে হাত পাকবে’—এই চিরাচরিত ধারণা অপশনের বাজারে একেবারেই খাটে না।
সামগ্রিকভাবে তথ্য বলছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ ট্রেডার-কোয়ার্টার পর্যবেক্ষণই ছিল লোকসানমুখী, যেখানে লাভের মুখ দেখেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ। আর যাঁরা মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে লাভও করেছেন, তাঁদের লাভের অঙ্ক বড় ক্ষতির তুলনায় সবসময়ই অনেক কম থেকে গেছে। সব মিলিয়ে সেবির এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাজারের আসল টেকনিক, পর্যাপ্ত মূলধন এবং সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অপশনের বাজারে টিকে থাকা নেহাতই ভাগ্যের ওপর ভরসা করার শামিল।