কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে সন্তানের কাছে থাকতেই খেলেন বিরাট বাজি! এক বছর ঘরে বসেই ২১ লক্ষ কামালেন মহিলা

সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাবেন—এই ভাবনা থেকেই ২০২৩ সালে বাঁধাধরা কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্নিগ্ধা। সেই মুহূর্তে তাঁর হাতে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবসার পরিকল্পনা ছিল না, কিংবা হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা ক্ষেত্রে কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাও ছিল না। কিন্তু নিজের সময়ের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর তাগিদেই তিনি খুঁজতে শুরু করেছিলেন বিকল্প কোনো পথ। আর সেই খোঁজই তাঁকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিল হোমস্টে ব্যবসার দুনিয়ায়। দিল্লির কয়েকটি সম্পত্তি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-র মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করে শুরু করেছিলেন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত এই অভিনব উদ্যোগ থেকে ২১ লক্ষ টাকা আয় করেছেন তিনি।

শূন্য অভিজ্ঞতা থেকেই সফল ব্যবসা
স্নিগ্ধার নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এয়ারবিএনবি প্ল্যাটফর্মে পা রাখার আগে তিনি নিজে সেখানে অতিথি হিসেবে থেকেও দেখেননি। চাকরি ছাড়ার পর মূলত শর্ট-টার্ম রেন্টাল বা স্বল্পমেয়াদি ভাড়া নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। ঠিক কীভাবে একটি সম্পত্তি অনলাইনে তালিকাভুক্ত করতে হয়, অতিথিদের কীভাবে আপ্যায়ন ও সামলাতে হয়, কিংবা বুকিং থেকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়—ধীরে ধীরে সমস্ত খুঁটিনাটি নিজেই রপ্ত করার চেষ্টা করেন। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ব্যবসা শুরু করার প্রথম দিনেই তাঁর কাছে প্রথম বুকিং চলে আসে। সেই প্রাথমিক সাফল্যই তাঁকে এই ব্যবসায় স্থায়ী হওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।

এই ব্যবসার মূল কাঠামো ও খরচ
স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার এই ব্যবসার মডেলটি মূলত বেশ সরল। দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটের বদলে এখানে কয়েক দিন বা অল্প সময়ের জন্য অতিথিদের কাছে সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জায়গাটি তালিকাভুক্ত করার পর বুকিং সামলানো, ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ, চেক-ইন এবং অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সমস্ত দায়িত্ব থাকে অপারেটরের ওপর।

তবে ২১ লক্ষ টাকা আয় মানেই যে পুরোটাই নিখাদ লাভ, এমনটা নয়। এই ধরনের ব্যবসায় নামার আগে বেশ কিছু খরচ মাথায় রাখতে হয়। সম্পত্তির মাসিক ভাড়া বা ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ, প্ল্যাটফর্ম ফি এবং প্রযোজ্য করের মতো একাধিক আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েই প্রকৃত লাভ হিসেব করতে হয়।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কি এই পথ খোলা?
এই ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য নিজস্ব সম্পত্তি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। অন্যের সম্পত্তি পরিচালনা করেও এই ব্যবসা সাফল্যের সঙ্গে চালানো সম্ভব। তবে স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল নিয়ম, হাউসিং সোসাইটির বিধি, বাড়ির মালিকের অনুমতি এবং কর সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলি আগে থেকেই ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ধরনের ব্যবসা চালানোর জন্য সেই শহরেই সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিভিন্ন অ্যাপ এবং স্থানীয় বিশ্বস্ত সহযোগীর সাহায্যে অন্য শহর বা দূরদূরান্ত থেকেও এই ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

টাকার অঙ্কে আয় বাড়ার পাশাপাশি স্নিগ্ধার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো সময়ের স্বাধীনতা। কর্পোরেটের ঘড়ির কাঁটা বাঁধা জীবনের বদলে আজ সন্তানের পাশে থেকে নিজের শর্তে কাজ করার সুযোগ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *