ভাগলপুরে দিনের আলোয় কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা: অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের দুই ছেলে, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

বিহারের ভাগলপুরে বুধবার বিকেলে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় মানুষ। সুলতানগঞ্জের স্টেশন রোড দিয়ে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে বন্দুকের মুখে এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে জোর করে বাইকে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবক পুলিশ অফিসারের ছেলে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টিউশনে যাওয়ার সময় কমলেশ নামে এক যুবক তাকে অস্ত্র দেখিয়ে জোর করে বাইকে তুলে নেয়। তাকে কাথারা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। ছাত্রীটি বাধা দিলে তাকে মারধর করে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে সে নিজেকে মুরারকা কলেজের কাছে একটি রেল ক্রসিংয়ের পাশে খুঁজে পায়। কোনোমতে বাড়ি ফিরে সে পরিবারের লোকজনকে সমস্ত ঘটনা জানায়।

মেয়েটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, অভিযুক্ত কমলেশের বড় ভাই দুর্গেশ তখন ছাদ থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে পরিবারটিকে হুমকি দেয়। খবর পেয়ে ডায়াল-১১২ পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই দুই ভাইকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই ভাই—কমলেশ ও দুর্গেশের বাবা উদয় যাদব সমস্তিপুরে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। তাদের পরিবারের আদি বাড়ি কাথারায় হলেও, কয়েক বছর আগে সুলতানগঞ্জে তারা বাড়ি তৈরি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দুই ছেলেকে আটকের খবর পাওয়ার পর সাব-ইন্সপেক্টর উদয় যাদব নিজেই পুলিশকে খবর দেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সুলতানগঞ্জের স্টেশন হাউস অফিসার ধনঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, আটক দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া সদর থানার ডিএসপি নবনীত কুমার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কমলেশের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে দুর্বৃত্তরা তার গলা কেটে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গিয়েছিল, তবে সে প্রাণে বেঁচে যায়। এছাড়া তার বড় ভাই দুর্গেশের বিরুদ্ধেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রভাবশালী পরিবারের হওয়ায় এবং পুলিশের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *