মাথায় ঝুলছে মৃত্যুর খড়্গ! ছত্তিশগড়ের ১২৪টি জরাজীর্ণ স্কুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ছে শিশুরা

সরকারের পক্ষ থেকে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও, মাটির বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় প্রশাসনের সমস্ত দাবি কার্যত কাগজেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর আর ভাঙা দেয়ালগুলো ছোট ছোট শিশুদের প্রতি চরম অবহেলার এক একটি জীবন্ত দলিল।
স্কুলের খোলা ছাদ আর নড়বড়ে দেয়াল দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, মেরামতের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও তার ছিটেফোঁটাও কাজে লাগেনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা কেবল খাতায়-কলমে জরাজীর্ণ স্কুলের পরিসংখ্যান তৈরি করতেই ব্যস্ত আছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এই জেলায় বর্তমানে ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরম বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরেও আরও বহু স্কুল ভগ্নদশার শিকার। মোট ১২৪টি জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে এখন বাধ্য হয়ে শিশুদের তাদের নিয়মিত ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত বা অন্য কোনো ঘরে পড়ানো হচ্ছে।
এদিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সমস্ত ব্লক এডুকেশন অফিসার (বিইও) এবং বিআরসিদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে স্কুলগুলোর অবস্থা শোচনীয়, সেখানকার শিশুদের নিরাপদ স্থানে বা অতিরিক্ত ঘরে ক্লাস করানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ রয়েছে, যে স্কুলগুলো শিশুদের জন্য পুরোপুরি বিপজ্জনক, সেখানে যেন কোনোভাবেই পাঠদান না চলে।
তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার তিন মাস পরেও যদি ১২৪টি স্কুল এই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঠিক কী ধরনের কর্তব্য পালন করছেন? নিয়ম অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সব জরাজীর্ণ স্কুল মেরামত করে দেওয়ার কথা, যাতে পড়ুয়ারা কোনো রকম অসুবিধার মুখে না পড়ে।
কিন্তু বাস্তবে স্কুলগুলোর ছাদ ও দেয়ালের যে অবস্থা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগটি সম্পূর্ণ উদাসীন। দেখে মনে হচ্ছে, কোনো একটা বড় বিপর্যয় ঘটার জন্যই যেন তারা অপেক্ষা করে বসে আছেন। আর এই অবহেলার দায় শেষ পর্যন্ত কার ঘাড়ে গিয়ে পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।