শিক্ষকের বাড়িতে ব্রাউন সুগারের কারখানা! জলপাইগুড়িতে রাতের অভিযানে পর্দাফাঁস করল পুলিশ

মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের এক গোপন অভিযানে সামনে এল এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডুয়ার্স অঞ্চল বরাবরই মাদক পাচারের করিডর হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার খোদ একজন সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকের ভাড়া বাড়িতে ব্রাউন সুগার তৈরির মিনি ইউনিটের সন্ধান মিলল। এই ঘটনায় শুধু নাগরাকাটা এলাকা নয়, পুরো রাজ্যজুড়েই শোরগোল পড়ে গেছে।
কীভাবে এল পুলিশের হাতে তথ্য?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য এসটিএফ-এর দেওয়া বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযুক্ত শিক্ষক রঞ্জিত শিকদারকে নজরে রেখেছিল জেলা পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ নাগরাকাটার ছওছড়িয়া পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় রঞ্জিতের ওই ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি বড় দল। মালবাজারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুদীপ্ত সরকার এবং নাগরাকাটার আইসি সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিক এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত রঞ্জিত সিকদার দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করলেও তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, এর আগে মালদার বামনগোলা এলাকাতেও নেশা সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে জেল খাটতে হয়েছিল।
এসএসবি-র স্নিফার ডগের কেরামতি ও উদ্ধার সামগ্রী
প্রাথমিক তল্লাশিতে নগদ ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা এবং কিছু জাল নোট উদ্ধার হলেও আসল রহস্যের সন্ধান মেলে এসএসবি-র সহায়তায়। ৪৬ ব্যাটেলিয়ান এসএসবি-র প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ ‘মরফি’কে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। মরফির সাহায্যেই ঘরের বিভিন্ন কোণ থেকে প্রায় ৬৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার তৈরির কাঁচামাল, বিশেষ সাদা কাপড় এবং প্যাকিংয়ের প্লাস্টিক উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় শিক্ষক রঞ্জিত শিকদার ছাড়াও পুন্ডিবাড়ি, কোচবিহারের বাসিন্দা ধীরাজ মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ধীরাজ ওই শিক্ষকের কাছে ব্রাউন সুগার কিনতে এসেছিলেন। ধৃত দু’জনকে বৃহস্পতিবার জেলা আদালতে তোলা হয়েছে এবং তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একজন শিক্ষকের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।