১০ লক্ষ ভিউ পেলেই সোজা পকেটে ১ লক্ষ টাকা! ভাইরাল হতে বিহারের ক্রিয়েটরদের বড় দাওয়াই

সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটরদের জন্য এক অভূতপূর্ব সুযোগ নিয়ে এল বিহার সরকার। রাজ্যের তথ্য ও প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়া নীতিতে বড়সড় সংশোধনী আনল নীতীশ কুমার সরকার। উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিশেষ নীতিতে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিহার সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার করলেই ক্রিয়েটররা পেতে পারেন আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কার।

কিভাবে পাবেন ১ লক্ষ টাকা?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্যের ওপর তৈরি ভিডিওর ভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়েটরদের টাকা দেওয়া হবে। সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিটি ১ লক্ষ ভিউয়ের জন্য ক্রিয়েটরদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। একটি ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ, যদি কোনো ভিডিও ১০ লক্ষ ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে, তবে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটর সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন।

জানতে হবে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি:
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, সব ভিডিও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না। এর জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে:

এম্প্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়া: শুধুমাত্র সরকারের তালিকাভুক্ত (Empanelled) এবং যোগ্য ক্রিয়েটররাই এই সুবিধা পাবেন।

যাচাইকরণ: সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ দফতর নিয়মিত ক্রিয়েটরদের পেজ, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং ফলোয়ার সংখ্যা যাচাই করবে।

মান নিয়ন্ত্রণ: শুধুমাত্র ভিউ থাকলেই হবে না, কনটেন্টের গুণমান এবং প্রচারের সঠিকতা বিচার করে তবেই অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

খুব শীঘ্রই তথ্য ও জনসংযোগ দফতর এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে, যেখানে আবেদনের পদ্ধতি এবং বৈধ কনটেন্টের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে।

সরকারের উদ্দেশ্য কী?
ডিজিটাল যুগে রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাগুলো দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশাসনিক প্রচার বাড়বে, অন্যদিকে বিহারের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন পথ।

বর্তমানে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিহারের ডিজিটাল মিডিয়ায় রীতিমতো সাড়া পড়ে গেছে। যারা নতুন করে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই এই প্রকল্পের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *