চিনা অনুপ্রবেশের দাবি নস্যাৎ কিরেন রিজিজুর! অরুণাচল নিয়ে বড়সড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

অরুণাচল প্রদেশে চিনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের যে খবর সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বৃহস্পতিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র পশ্চিম অরুণাচল থেকে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় ভারতীয় সেনা ও সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারগুলি সীমান্ত এলাকাগুলিকে চরম অবহেলার চোখে দেখেছিল, কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকার সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে।

কংগ্রেসের তোপ ও ইউপিএ আমলের প্রসঙ্গ

অরুণাচলের আপার সুবানসিরি অঞ্চলে চিনা সামরিক গতিবিধির খবর সামনে আসার পরই কেন্দ্রকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সাংসদ রাহুল গান্ধী। খাড়গের তোলা একাধিক প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে—চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) কি তাকসিংয়ের কাছে উপস্থিতি বাড়িয়েছে? ভারতীয় সেনা কি নির্দিষ্ট পেট্রোলিং পয়েন্টগুলোতে যাতায়াতের অধিকার হারিয়েছে? কংগ্রেসের অভিযোগ, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার দেশবাসীকে এবং সংসদকে অন্ধকারে রাখছে।

এই অভিযোগের পালটা জবাবে কিরেন রিজিজু ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেন। রিজিজুর দাবি, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ভারতের কৌশলগত নীতিই ছিল সীমান্ত এলাকাগুলিকে অনুন্নত রাখা। যদিও কংগ্রেসের পালটা দাবি, ইউপিএ সরকারের আমলেই সীমান্ত সড়ক ও পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দেওয়া শুরু হয়েছিল।

সীমান্তের নতুন সমীকরণ ও ভারতের কৌশল

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে চিন তাদের ‘মানচিত্র ও নাম বদল’-এর কৌশল অব্যাহত রেখেছে। গত এপ্রিলে বেজিং অরুণাচলের ৩০টি এলাকার নাম বদলে নিজেদের বলে দাবি করেছিল। তার অব্যবহিত পরেই ভারতও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চলতি মাসেই ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র নতুন মানচিত্রে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন তিব্বতের ২৭টি এলাকার নাম বদলে ভারত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

যদিও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের তোলা প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর কেন্দ্র বা চিন—উভয় তরফ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়নি। চিন কেবল জানিয়েছে যে, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল। অরুণাচল সীমান্তে চিনা তৎপরতা নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, সীমান্ত শান্ত থাকাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে জরুরি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার প্রকৃত তথ্য গোপন করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *