প্রধান শিক্ষিকাকে কুপিয়ে খুন! সিসিটিভি ফাঁকি দিলেও শেষরক্ষা হল না, ধরা পড়ল কোন দুই নাবালক?

তেলঙ্গানার নালগোন্ডা জেলায় এক স্কুল প্রধান শিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে খুন করে টাকা ও মোবাইল লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথমে কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। এমনকি প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেও খুনির নাগাল পায়নি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত মৃতার একটি ছোট্ট ফোনালাপ এবং রক্তের দাগযুক্ত নোটের সূত্র ধরেই মূল অভিযুক্ত দুই নাবালক ছাত্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
গত ১১ অগস্ট নালগোন্ডার নিজ বাসভবনে খুন হন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রূপা রেড্ডি। নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরথ চন্দ্র পাওয়ারের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচটি বিশেষ দল ঘটনার তদন্তে নামে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত্যুর আগে রূপা দেবী তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনালাপে ‘বাবু’ বলে কাউকে সম্বোধন করেছিলেন। খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের তিনি প্রায়ই এই নামে ডাকতেন। এরপরই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে স্কুলের পড়ুয়াদের ওপর।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ১৩ জন পড়ুয়া অনুপস্থিত ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের আচরণে পুলিশের সন্দেহ জোরালো হয়। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে ১.৫৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই ছাত্র দাবি করে যে বাবা-মা তাকে টাকা দিয়েছেন, কিন্তু নোটে রক্তের দাগ দেখতে পান তদন্তকারীরা। ফরেন্সিক পরীক্ষায় সেই রক্ত নিহত শিক্ষিকার বলেই নিশ্চিত হয় পুলিশ।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এক ছাত্র আগে স্কুলের হস্টেলে থাকত। তার ব্যাগে টাকা ও মোবাইল পাওয়ার জেরে রূপা দেবী তাকে বকাঝকা করে হস্টেল থেকে সরিয়ে ডে-স্কলারে করে দিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে সে। খুনের কয়েক দিন আগে প্রধান শিক্ষিকার বাড়ির রেইকি করা হয়। স্কুলের ফি বাবদ বাড়িতে নগদ টাকা থাকতে পারে জেনেই গত ১১ অগস্ট মুখোশ পরে দেওয়াল টপকে শিক্ষিকার বাড়িতে ঢোকে দুই নাবালক।
হামলার সময় এক জনের মুখোশ খুলে যাওয়ায় শিক্ষিকা তাদের চিনে ফেলেন। এরপরই ছুরি দিয়ে তাঁকে ২৭ বার কোপানো হয়। টাকা ও মোবাইল লুট করে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে ১.৫৪ লক্ষ টাকা, একটি আইফোন এবং রূপার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা নাবালক হওয়ায় তাদের জুভেনাইল জাস্টিস কোর্টে পেশ করা হবে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক এলাকার অভিভাবক ও পুলিশ মহল।